লিবিয়ায় অভিবাসী বন্দিশিবিরে হামলা নিহত ৪৪

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির বাইরে একটি অভিবাসী বন্দিশিবিরে বিমান হামলায় কমপক্ষে ৪৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৩০ জন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রাথমিক খবরে হতাহতের সংখ্যা কম ছিল। আহতদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চালানো এ হামলায় হতাহতদের বেশিরভাগই আফ্রিকান অভিবাসী। লিবিয়া থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন তারা। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা এ খবর জানিয়েছেন। হতাহতের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি আছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খবর বিবিসি ও এএফপির।

এদিকে এ হামলার জন্য জেনারেল খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন স্বঘোষিত লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মিকে দায়ী করেছে জাতিসংঘ সমর্থিত লিবিয়া সরকার। এ ছাড়া জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অধিকারবিষয়ক কমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট বলেছেন, এ হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। দ্বিতীয়বারের মতো অভিবাসীদের এ শিবিরটি আক্রান্ত হলো।

ত্রিপোলির জরুরি সেবা বিভাগের মুখপাত্র ওসামা আলি জানান, হামলার সময় তাজুরা বন্দিশিবিরে ১২০ অভিবাসী একটি হ্যাঙ্গারে অবস্থান করছিলেন। এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ডা. খালিদ বিন আত্তিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, শিবিরজুড়ে মানুষ ছিল। বিমান হামলায় শিবিরটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। জীবিত মানুষের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে এলাকাটি। অনেকেই মানসিক আঘাতে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছে। আমরা পুরো এলাকা পরিস্কারভাবে দেখতে পাচ্ছিলাম না। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স আসার পর যা দেখলাম তা ছিল রীতিমতো ভয়ঙ্কর। এলাকাজুড়ে মানুষের দেহের বিভিন্ন অংশ ও রক্ত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।

বন্দিশিবিরটি রাজধানী ত্রিপোলির কাছে তাজুরা এলাকায় অবস্থিত। সেখানে এ হামলার জন্য জেনারেল খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন স্বঘোষিত লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মিকে দায়ী করেছে লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ আল সেরা বলেন, হাফতার বাহিনীর এ হামলা একটি জঘন্য অপরাধ।