প্রিন্সেস হায়া এখন লন্ডনে

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

কয়েক মাস আগে দুবাই ছেড়ে পালান প্রিন্সেস হায়া বিনতে আল-হুসেইন। প্রথমে জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে ব্যর্থ হয়ে তিনি চলে আসেন লন্ডনে। ৪৫ বছর বয়সী হায়া দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ আল মাখতুমের ষষ্ঠ স্ত্রী। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বললেও জীবনের ভয়েই দুই সন্তানকে নিয়ে দুবাই থেকে পালিয়েছেন বলে জানা গেছে। খবর বিবিসির।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম বড় শহর দুবাইয়ের ৬৯ বছর বয়সী শাসক শেখ মোহম্মদ একজন বিলিয়নেয়ার। বেশ কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি কবিতা প্রকাশ করেন তিনি। ওই কবিতায় এক নারীকে বিশ্বাসঘাতকার জন্য দায়ী করেন। সেই কবিতার একটি পঙ্‌ক্তি ছিল এমন- 'তুমি বেঁচে আছ কি মরে গেছ তাতে আমার কিছু যায় আসে না।' এখন স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, ষষ্ঠ স্ত্রী হায়াকে উদ্দেশ করেই কবিতাটি লিখেছিলেন তিনি।

জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহর সৎবোন হায়া। ২০০৪ সালে তিনি শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তিনি ছাড়াও শেখ মোহাম্মদের আরও পাঁচ স্ত্রী আছেন। তাদের ঘরে তার ২৩টি সন্তান আছেন। দুবাই ছেড়ে পালিয়ে প্রিন্সেস হায়া এখন বাস করছেন লন্ডনের কেনসিংটন প্যালেস গার্ডেন্সের একটি টাউন হাউসে। যার মূল্য প্রায় ১০৭ মিলিয়ন ডলার। লন্ডনেই রাজনৈতিক আশ্রয় চাচ্ছেন তিনি। কিন্তু কেন তিনি দুবাইয়ের বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে পালালেন? কেন তিনি তার জীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন?

সেই রহস্য লুকিয়ে আছে শেখ মোহাম্মদের আরেক স্ত্রীর মেয়ে প্রিন্সেস লতিফা বিনতে মোহাম্মদ আল মাখতুমের দুবাই থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং আবার রহস্যজনকভাবে ফিরে আসার পেছনে। গত বছর ডিসেম্বরে রাজপরিবারে 'দমবন্ধ' হয়ে যাওয়ার কারণে শেখ লতিফা এক ফরাসি নাগরিকের সহায়তায় সাগরপথে পালিয়েছিলেন। কিন্তু পথেই আমিরাতের কিছু সশস্ত্র ব্যক্তি তাকে ফের দুবাইয়ে ধরে নিয়ে যায়। এরপর থেকে লতিফাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। যদিও সম্প্রতি শেখ পরিবার থেকে বলা হয়েছে, তিনি ভালো আছেন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, লতিফাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অপহরণ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় দুবাইয়ের ভাবমূর্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন প্রিন্সেস হায়া। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এমন কয়েকজন জানান, তখন হায়া কিছু গোপন বিষয় সম্পর্কে জানতে পারেন। এ নিয়ে তার স্বামীর পরিবার থেকে চাপ আসতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকেন এবং তিনিও অপহরণের শিকার হতে পারেন বলে এখন আশঙ্কা করছেন।