উত্তর কোরিয়ার বিবৃতি যুক্তরাষ্ট্র শত্রুতায় নাছোড়বান্দা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে সম্মত হওয়ার পরও উত্তর কোরিয়ার প্রতি শত্রুতা বজায় রাখতে নাছোড়বান্দা যুক্তরাষ্ট্র। তারা যে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের উপায় হিসেবে নিষেধাজ্ঞায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে। জাতিসংঘে পিয়ংইয়ংয়ের প্রতিনিধি দল বুধবার এ মন্তব্য করেছে। তারা আরও বলেছে, ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞার ঘোরে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী অসামরিক অঞ্চলে উত্তরের সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে এক ঐতিহাসিক বৈঠক করেন। সে বৈঠকে তারা কোরীয় উপদ্বীপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে পুনরায় আলোচনার বিষয়ে একমত হন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প ওই দিন দক্ষিণের সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশ করেন উত্তর কোরিয়ায়। এসব ঘটনার একদিন পরই উত্তর কোরিয়া এমন অভিযোগ করল। ফলে দুই দেশের পুনরায় আলোচনা শুরুর বিষয়টি আসলে কতদূর এগোবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য উত্তর কোরিয়ার এই বিবৃতির বিষয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। খবর বিবিসির।

উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে পরিশোধিত পেট্রোল আমদানির ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযোগ তুলেছে, তার জবাব দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে। তারা আরও জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠনো যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের সম্মিলিত চিঠিরও জবাব দিয়েছেন তারা। ওই চিঠিতে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোতে কর্মরত উত্তর কোরিয়ার শ্রমিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

ব্যালাস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা চালালে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় জাতিসংঘ। তাতে বলা হয়, ২০১৯ সালের মধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত উত্তর কোরিয়ার শ্রমিকদের দেশে ফিরতে হবে। উত্তর কোরিয়ার আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস এই রেমিট্যান্স। মূলত ওই আয়ের উৎস বন্ধ করতেই এমন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। জাতিসংঘের হিসাবে প্রতি বছর কয়েক লাখ শ্রমিককে বিদেশে পাঠায় উত্তর কোরিয়া। চীন এবং রাশিয়া ওই শ্রমিকদের প্রধান গন্তব্য।