হংকংয়ে আন্দোলনের জন্য দায়ী পশ্চিমারা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

হংকংয়ে আন্দোলন উসকে দিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর অনধিকার চর্চাকে দায়ী করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। চীন ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যে সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশ হংকংয়ে এ ধরনের রাজনৈতিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার হংকংয়ের বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন না চালানোর জন্য বেইজিংয়ের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে যুক্তরাজ্য। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

চায়না ডেইলি চীনের রাষ্ট্রীয় পত্রিকা। গত বুধবার এর সম্পাদকীয়তে বলা হয়, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলোয় পশ্চিমা সরকারের কর্মকাণ্ডে দুর্ভোগ ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। এরপরও তাদের পছন্দ নয়- এমন সরকারের বিরুদ্ধে অশান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টায় পশ্চিমা সরকারের ভাবাদর্শের কোনো পরিবর্তনই আসেনি। ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত পত্রিকাটির দাবি, পশ্চিমারা এবার চীনের ওপরও এই একই কৌশল কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

গত সোমবার ছিল হংকংকে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে চীনা শাসনের কাছে হস্তান্তর করার ২২ বছর পূর্তি। সে উপলক্ষে বুধবার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়। সাধারণত, প্রতিবছর গণতন্ত্রকামী মিছিলের আয়োজন করে দিনটি উদযাপন করে হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থিরা। তবে বিতর্কিত 'আসামি প্রত্যর্পণ' আইনকে কেন্দ্র করে এ বছর অস্থিরতা বিরাজ করছে হংকংয়ে। নতুন এ আইন অনুযায়ী চীন চাইলে সন্দেহভাজন অপরাধীদের তাদের মূল ভূখণ্ডে নিয়ে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারবে। এর প্রতিবাদে কয়েকজন আন্দোলনকারী বেশ কয়েক ঘণ্টা আইনসভা কাউন্সিল দখল করে রাখে।

টানা আন্দোলনের জেরে অপরাধী প্রত্যর্পণ আইন আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে বিরোধীরা বলছেন, এর ফলে হংকংয়ের বহুল প্রত্যাশিত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে। আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার দায়ে এ পর্যন্ত অন্তত ২৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারী এবং ফরেনসিক দল আইনসভায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে আরও প্রমাণ সংগ্রহ করছে।