কংগ্রেসের নেতৃত্বে কে

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

রাহুল গান্ধী ভারতের শতাব্দীপ্রাচীন দল কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মঙ্গলবার। বেশ কয়েকদিন ধরেই তার পদত্যাগের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। অবশেষে একটি চিঠির মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সে ঘোষণা দিলেন। এখন কংগ্রেসকে গান্ধী পরিবারের বাইরে থেকে নেতা নির্বাচিত করতে হবে। 'পারিবারিক দল' হিসেবে আখ্যা পাওয়া কংগ্রেসের ইতিহাসে এটি একটি বাঁক পরিবর্তন হওয়ার মতো ঘটনা বটে। কয়েক বছর আগেও যা অচিন্তনীয় ছিল। এখন প্রশ্ন উঠেছে, কে হবেন কংগ্রেসের সভাপতি। তিনজনের নাম শোনা যাচ্ছে বেশ জোরেশোরে। তারা হলেন- সুশীল কুমার সিন্ধে, মুকুল ভাসনিক ও মল্লিকার্জুন খাড়গে। অন্যদিকে দলীয় প্রধানের পদ থেকে রাহুলের পদত্যাগের পর অন্তর্বর্তী সভাপতি নিয়োগের বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে কংগ্রেস। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন সভাপতি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত রাহুলই দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এর কারণ হিসেবে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটি এখনও রাহুলের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি। বুধবার রাহুল গান্ধী জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দলের নতুন নির্বাচন সম্পন্ন হবে। খবর এনডিটিভি, নিউজ এইটিন ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো গান্ধী-নেহেরু পরিবারের বাইরে থেকে কেউ কংগ্রেসের হাল ধরবেন। এর আগে পিভি নরসিমা রাও এবং সিতারাম কেশরী গান্ধী-নেহেরু পরিবারের বাইরে থেকে এই দায়িত্ব পালন করেছেন। কংগ্রেসের উচ্চ পর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, এক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন সভাপতি খুঁজে নেওয়া হবে। কে কংগ্রেসের নতুন সভাপতি হবেন, সে সিদ্ধান্ত অবশ্য নেবেন রাহুল, তার মা ও সাবেক কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী এবং বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচন সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসের রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা। মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা সুশীল কুমার সিন্ধের নাম শোনা যাচ্ছে সর্বাগ্রে। ৭৭ বছর বয়সী এই নেতাকে কংগ্রেসের হবু সভাপতি হিসেবে ধরে নিয়েছেন অনেক বিশ্নেষকই। ২০০২ সালে দল তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিল। মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ এই নেতা সেখানকার একজন প্রভাবশালী দলিত নেতা হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া তিনি গান্ধী পরিবারের অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবেও পরিচিত।

কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে মহারাষ্ট্রেরই আরেক দলিত নেতা মুকুল ভাসনিকের নামও শোনা যাচ্ছে। তিনি দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভার মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে সিন্ধে কিংবা মুকুলকে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কংগ্রেসকে মহারাষ্ট্রে চলতি বছরের শেষে অনুষ্ঠেয় বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও ভাবতে হবে। এদিকে মহারাষ্ট্র থেকে নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাই কংগ্রেসকে এসব হিসাব-নিকাশও কষতে হবে। সে ক্ষেত্রে কংগ্রেস নজর দিতে পারে মল্লিকার্জুন খাড়গের দিকে। এই প্রবীণ নেতা গত লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে কংগ্রেসের নেতৃত্ব দিয়েছেন। টানা ১০ বার কর্ণাটকের গুলবার্গা থেকে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হলেও এবার হেরে যান। ৭৬ বছর বয়সী খাড়গে কংগ্রেস সরকারের হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।