হংকংয়ে আন্দোলনে নতুন মাত্রা

বাবা-মায়ের হাত ধরে বিক্ষোভে শিশুরা

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৯     আপডেট: ১১ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

হংকংয়ে প্রত্যর্পণ বিল নিয়ে শুরু হওয়া প্রশাসনবিরোধী আন্দোলন তৃতীয় মাসে পড়ল। শুক্রবার হংকংয়ের বিমানবন্দরে সমাবেশ শুরু করেছে গণতন্ত্রপন্থিরা। আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। বেলুন ও অন্যান্য খেলনাদ্রব্য হাতে নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে রাস্তায় জড়ো হয়েছে শিশুরাও। মা-বাবারা বলছেন, তারা তাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ ও উন্মুক্ত করার জন্য তাদের নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন। এদিকে হংকং পরিস্থিতি নিয়ে কথার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ। ব্রিটেন হংকং পরিস্থিতি নিয়ে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। খবর এএফপি ও রয়াটর্সের।

শুক্রবার হংকংয়ের বিমানবন্দরে হাজার হাজার গণতন্ত্রপন্থি জড়ো হয়ে তিন দিনের বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করে। গতকাল শনিবার আরও বেশি মানুষের সমাবেশ ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। শত শত পরিবার শহরের রাজপথে নেমে আসে তাদের শিশুসন্তানদের নিয়ে। ছোটদের হাতে শোভা পেতে থাকে নানা রঙের বেলুন ও অন্যান্য খেলনা। শিশুদের মা-বাবারা প্রশাসনবিরোধী নানা স্লোগান দিতে থাকেন। বর্ণাঢ্য ও শান্তিপূর্ণ এ সমাবেশ সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিভিন্ন ইংরেজি অক্ষর ব্যবহার করে স্লোগান লেখা লিফলেটও বিতরণ করা হয় জনতার মাঝে। যেমন, 'পি' ফর প্রটেস্ট, 'এ' ফর অ্যাংরি, 'ডি' ফর ডেমোনেস্ট্রেশন ইত্যাদি।

ফায়া লেই নামের একজন বিক্ষোভকারী বলেছেন, 'আমরা আমাদের শিশুদের হংকংয়ের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত করে দেওয়ার জন্য তাদের নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছি। আমরা চাই, তারা তাদের অধিকারের বিষয়ে এসব দেখে এখন থেকে সচেতন হয়ে উঠুক।'

শিশুদের নিয়ে রাস্তায় নামার এ কার্যক্রমটা অবশ্য কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমেই তারা শুরু করেছে বলে জানায়। যদিও হংকংয়ের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ গণতন্ত্রপন্থিদের বিক্ষোভ ও সমাবেশের বিরুদ্ধে প্রথম থেকে বিরূপ ভাব দেখিয়ে এসেছে। এদিকে গতকাল শনিবার পূর্বাহ্নে হংকংয়ের প্রবীণরা 'সিলভার হেয়ার' নামে প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেন।

হংকংয়ের বিমানবন্দরে তিন দিনে অবস্থান আজ রোববার শেষ হবে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা। গতকাল শনিবার ও আজ রোববার বিক্ষোভকারীরা ব্যাপক শোভাযাত্রার পরিকল্পনা করলেও সহিংসতা ও সংঘাতের ভয়ে কর্তৃপক্ষ তাতে অনুমোদন দেয়নি।

এদিকে হংকং পরিস্থিতি নিয়ে কথার যুদ্ধে মেতে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। চীন অভিযোগ করেছে, হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থিদের পেছনে বিদেশিদের উস্কানি রয়েছে। হংকংয়ের একটি পত্রিকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কূটনীতিবিদ দেখা করেছেন- এমন একটি খবর প্রকাশ করলে যুক্তরাষ্ট্র এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মর্গান ওর্তেগাস বলেন, এ ধরনের খবর প্রকাশ বিপজ্জনক। এটা বন্ধ করা উচিত।

হংকংয়ের সাবেক ঔপনিবেশিক শাসক দেশ যুক্তরাজ্য চলমান পরিস্থিতিতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানায়।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থিদের পক্ষের ছাত্রদের সঙ্গে চীন সমর্থক ছাত্রদের মধ্যেও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে।