ভারতকে রাশিয়ার সমর্থন পাকিস্তানকে চীনের

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৯     আপডেট: ১১ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতকে রাশিয়া এবং পাকিস্তানকে চীন সমর্থন দিয়েছে। আর শ্রীলংকার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ্র রাজাপাকসে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নিতে তার দেশের সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন। শনিবারের এসব ঘটনার আগের দিন রাতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণাকে অনুমোদন করেছে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদ। তিন দিন আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সভাপতিত্বে তাদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি কাশ্মীর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। খবর এনডিটিভি, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ভারতের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটি বলেছে, ভারতীয় সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। সিমলা চুক্তিও নয়াদিল্লির পদক্ষেপকে সমর্থন করে বলে মত দিয়েছে মস্কো। এ ছাড়া ভারত ও পাকিস্তানকে শান্তি বজায় রাখারও আহ্বান জানিয়েছে তারা। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ কথা বলা হয়েছে। মস্কো বলেছে, আমরা আশা করি, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে ১৯৭৭ সালের সিমলা চুক্তি ও ১৯৯৯ সালের লাহোর চুক্তির বিধান মেনে এ সমস্যার সমাধান হবে।

এদিকে পাকিস্তানকে সমর্থন জানিয়ে চীন বলেছে, কাশ্মীরকে অবৈধভাবে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করছে ভারত। দীর্ঘদিনের বিরোধটি জাতিসংঘ সনদ, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে যথাযথ ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে হবে।

ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি আলোচনা করতে শুক্রবার চীনে গেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি। বিষয়টি নিয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই'র সঙ্গে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করেন কোরেশি। এ সময় তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানকে সমর্থন জানানোর আহ্বান জানান। পাকিস্তান কাশ্মীর ইস্যুটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করবে বলে জানিয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং বলেছেন, কাশ্মীরের সর্বশেষ উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে বেইজিং প্রচণ্ড উদ্বিগ্ন। এ বিষয়ে ভারতের একতরফা পদক্ষেপের বিষয়েও সতর্ক করেছেন তিনি। এই প্রথম চীন কাশ্মীর নিয়ে ভারতের পদক্ষেপের বিষয়ে তাদের স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে দিল। এর আগে বেইজিংয়ের এক বিবৃতিতে লাদাখ অঞ্চলে ভারতের সঙ্গে তাদের বিরোধের বিষয়টিই উল্লেখ করা হয়েছিল। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত এক নোটিশে বৈঠকের জন্য তার চীনা প্রতিপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কোরেশি কাশ্মীরের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের পর্যবেক্ষণ, অবস্থান ও ব্যবস্থা সম্পর্কে চীনকে অবহিত করেন। অন্যদিকে, জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার পর গতকাল শনিবার শ্রীলংকার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসে দেশটির শীর্ষস্থানীয় তামিল দৈনিক বিরকেসারিতে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এখন দুটি মত রয়েছে। কেউ নতুন সংবিধান চায়, কেউ কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা চায়। আবার কারও মতে, তাদের সংবিধানের ১৩তম সংশোধনীর ভিত্তিতে একটি রাজনৈতিক সমাধানই যথেষ্ট। এ পরিস্থিতিতে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। রাজাপাকসে বলেন, কাশ্মীরে এখন কী ঘটেছে, দেখুন। আমাদের এসব বিষয় মাথায় রেখে পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজনৈতিক সমাধানের সময় আমাদের এ বিষয়গুলো বুঝতে হবে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে এক টুইটে বলেছিলেন, এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।