কাশ্মীরে ঈদ, বাড়ি থেকে মসজিদ

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

কাশ্মীরে ঈদ, বাড়ি থেকে মসজিদ

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন করায় ভারত সরকারের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রতিবাদ জানান সেখানে বসবাসকারী মুসলমানরা। একই সঙ্গে অবরুদ্ধ কাশ্মীরে স্বাভাবিক জীবনযাপন ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা - এএফপি

এবার কাশ্মীরে পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে দেখা যায়নি প্রাণের কোলাহল। এত বিষণ্ণ ঈদ কাশ্মীরবাসী আর কখনও দেখেনি। রাস্তার মোড়ে মোড়ে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বন্দুক হাতে দাঁড়িয়ে ছিল শুধু সেনারা। ঈদের দিনেও সেখানে নেমে আসে নীরবতা। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ঈদের দিন সোমবার নিরাপত্তা কড়াকড়ি শিথিল করা হবে। তবে তা হয়নি। শুধু ঈদের জামাতে অংশ নিতে বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি ছিল কাশ্মীরিদের। জামাত শেষে তড়িঘড়ি সবাইকে ফের বাড়ি পাঠিয়ে দেয় সেনারা। আগের ঈদগুলোর আনন্দ, উচ্ছ্বাসের বিপরীতের এবার কাশ্মীরিদের চোখেমুখে দেখা যায় আতঙ্ক আর ক্ষোভ। এদিকে ১৫ আগস্টের পর কাশ্মীর উপত্যকায় জনসাধারণের চলাফেরায় আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন কাশ্মীরের গভর্নর সত্যপাল মালিক। তিনি বলেন, ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তখন পর্যায়ক্রমে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হবে। অন্যদিকে, বুধবার জম্মুতে ১৪৪ ধারা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।

গত সপ্তাহে বিজেপির নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করার পর সেখানে প্রথম ঈদ হলো। তবে বড় জমায়েতের ভয়ে সোমবার বেশিরভাগ মসজিদেই ঈদের জামাত আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। খবর এনডিটিভি, দ্য ডন ও দ্য হিন্দুর।

কেন্দ্রীয় সরকারের সরবরাহ করা বিভিন্ন ছবিতে শ্রীনগরের আশপাশের ছোট মসজিদগুলোতেই স্থানীয়দের ঈদের নামাজ পড়তে দেখা যায়। গ্রেফতার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহসহ শীর্ষ রাজনীতিকদের কাছাকাছি মসজিদে নামাজ আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি ঈদের দিন কাশ্মীরের জনগণকে 'ঘরের মধ্যে আটকে' রাখার তীব্র সমালোচনা করেন। ইয়েচুরি ও সিপিআইর সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা শুক্রবার কাশ্মীরে নেমে সিপিএম নেতা ইউসুফ তারিগামির সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও কর্তৃপক্ষ তাদের অনুমতি দেয়নি। অন্যদিকে, কংগ্রেসনেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেছেন, বিজেপি সরকারের কাশ্মীর সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক। তিনি বলেন, 'ভারতীয় কাশ্মীরে যখন ৩৭০ অনুচ্ছেদ বহাল করা হয়েছিল, তখন বেশকিছু নিয়মও তৈরি হয়েছিল। সে নিয়মগুলো না মেনেই কেন্দ্রের মোদি সরকার তা খারিজ করার কথা ঘোষণা করে। কারও মতামতই নেয়নি বিজেপি সরকার।'

কাশ্মীরে চলমান অবরুদ্ধতার মধ্যেই জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভা নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য ভেঙে কেন্দ্রশাসিত জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ গঠন করা হয়েছে। তবে লাদাখে বিধানসভা রাখা হয়নি। সেখানে নির্বাচনের প্রশ্নও নেই। কেন্দ্রের শাসনে বিধানসভা রাখা হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরে। ফলে সেখানে নির্বাচন হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র জানায়, পুনর্গঠন আইন অনুযায়ী নতুন বিধানসভায় ১১৪টি আসন থাকবে। এর মধ্যে ২৪টি আসন পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের অধীনে পড়ায় সেগুলো শূন্য থাকবে।