ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের প্রধান শহর শ্রীনগরের সৌরা এলাকায় শুক্রবার জুমার নামাজের পর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে জনতার। এতে কতজন আহত হয়েছেন তা নির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও ছররা গুলিতে দু'জনের আহত হওয়ার কথা নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের আহ্বানে সৌরার মানুষ জুমার নামাজের পর কারফিউ ভেঙে বিক্ষোভ করে। রাস্তায় নেমে আসে নারী, শিশু থেকে সব বয়সী মানুষ। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী সৌরায় ঢোকার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলে নয়াদিল্লির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এ বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। এ জন্য শুক্রবার কাশ্মীরে কারফিউ জারি করা হয়। গতকাল শনিবার ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উপত্যকার অনেক এলাকা থেকে কারফিউ তুলে নেওয়া হয়েছে। খবর রয়টার্স, বিবিসি ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

মঙ্গলবার রাতে শ্রীনগরজুড়ে শুক্রবারের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান সংবলিত পোস্টার দেখা যায়। যৌথ প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এ বিক্ষোভের ডাক দেন। জনতাকে মিছিল করে শ্রীনগরে জাতিসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক গ্রুপের কার্যালয়ের দিকে যেতে আহ্বান জানানো হয়। ১৯৪৯ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর ওই কার্যালয় স্থাপন করা হয়। ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরকে দ্বিখণ্ডিত করে বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর এই প্রথমবারের মতো বিক্ষোভের ডাক দেন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা। যদিও তাদের বেশিরভাগই ৪ আগস্ট রাত ও তার আগে-পরে গ্রেফতার হয়েছেন। ১৯ দিন ধরে অবরুদ্ধ কাশ্মীরে গ্রেফতারের সংখ্যা চার সহস্রাধিক। এই দীর্ঘ সময় ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে কাশ্মীর। যদিও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত সপ্তাহে  বেশকিছু জায়গায় টেলিফোন সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়েছে।

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল হলে সৌরাতেই বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল দুই সপ্তাহ আগের জুমার নামাজের পর। গত শুক্রবারও নামাজের পর শান্তিপূর্ণ মিছিল হয় সেখানে। বিবিসির সাংবাদিক আমির পীরজাদা লিখেছেন, গত শুক্রবার নামাজ শুরু হওয়ার আগেই দুপুর ১টার দিকে সৌরা পৌঁছান তিনি। জেনাব সায়েব মসজিদে নামাজ পড়তে জড়ো হন নারী-পুরুষ। এই মসজিদটিই সৌরার বাসিন্দাদের প্রতিরোধের কেন্দ্রস্থল। ৫ আগস্টের পর থেকে প্রতি রাতেই জনতা সেখানে জড়ো হয়ে মশাল হাতে মিছিল করে। শুক্রবার নামাজের পর মসজিদ থেকেই স্বাধীনতার পক্ষে স্লোগান ওঠে। এরপর শুরু হয় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ। কয়েক হাজার মানুষের সেই বিক্ষোভ মিছিলটি নানা অলিগলি ঘুরে শেষ হওয়ার পথে ছিল। ঠিক সে সময় একটা জায়গায় গলির ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে নিরাপত্তা বাহিনী। আর তখনই শুরু হয় সংঘর্ষ।

নিরাপত্তা বাহিনী যেন সৌরায় ঢুকতে না পারে সে জন্য প্রধান সড়ক থেকে যত গলি ভেতরে ঢুকেছে, তার সবই খুঁড়ে রেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কোথাও কোথাও রয়েছে ব্যারিকেড। স্থানীয় তরুণরা এসব পাহারা দেন। পুলিশের গাড়ি সেখানে ঢুকতে পারে না। ভেতরে ঢুকতে গেলে পুলিশকে হেঁটেই ঢুকতে হবে। আমির পীরজাদা লিখেছেন, সে রকমই একটা গলি দিয়ে পুলিশ আর কেন্দ্রীয় বাহিনীর দল সৌরায় ঢুকতে চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরা পাথর ছুড়তে থাকে। সব বাড়ি থেকে টিন বাজানো শুরু হয় এবং সমস্ত মানুষ বেরিয়ে গলির মুখে জড়ো হয়। জনতা ছোড়ে পাথর আর নিরাপত্তা বাহিনী ছোড়ে ছররা গুলি, টিয়ার গ্যাসের শেল ও মরিচের গুঁড়ার গ্রেনেড। দু'জনকে ছররা গুলিতে মারাত্মক আহত হতে দেখেছেন আমির পীরজাদা। যদিও প্রশাসন নির্দিষ্ট করে আহতের সংখ্যা জানায়নি। ওই সংঘর্ষ চলে প্রায় দুই ঘণ্টা। তবে সৌরাতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও উপত্যকার অন্য কোথাও শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি। কারণ বড় মসজিদগুলোতে বড় ধরনের জমায়েতের অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। সোপিয়ান, কুলগাম, বারামুল্লা, কুপওয়াড়া বা অনন্তনাগ এলাকায়ও একই ধরনের বিধিনিষেধ ছিল। মাইক বাজানোরও অনুমতি দেওয়া হয়নি কোনো মসজিদে। অবশ্য ছোট মসজিদগুলোতে নামাজ পড়তে কোনো বাধা ছিল না।

মন্তব্য করুন