ইইউ নেতাদের সঙ্গে মতভেদ ট্রাম্পের

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

ফ্রান্সের বিয়াররিৎস শহরে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে জি-৭ সম্মেলন। শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭। তিন দিনের এ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও স্বাগতিক ফ্রান্সের নেতারা। গতকাল রোববার সম্মেলনে এক পার্শ্ববৈঠকে বসেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এ সময় ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে লন্ডনের সঙ্গে বড় ধরনের বাণিজ্য চুক্তির কথা বলেছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে জি-৭-ভুক্ত দেশের নেতাদের সঙ্গে বেশ ভালোই আলোচনা চলছে বলে গতকাল দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, জি-৭ জোটভুক্ত ইইরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে মতভেদ দেখা দিয়েছে তার। খবর রয়টার্স ও বিবিসির।

এবারের জি-৭ বৈঠকে মূলত বিশ্ব অর্থনীতির মন্দাভাবকে চ্যালেঞ্জ, বাণিজ্যযুদ্ধের সংকট এবং পশ্চিমা নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক বিভেদ কমাতে জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে এ বিভক্তি বোধহয় সহজে দূর হওয়ার নয়। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। ফ্রান্স ইতিমধ্যে বলেছে, সম্মেলনে কী আলোচনা হয় তার একটা বার্তা তেহরানকে দেওয়া হবে। ট্রাম্প এর বিরোধিতা করেছেন। তিনি চাচ্ছেন, ইরানকে যেন সর্বোচ্চ চাপে রাখে ইউরোপ। অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়া কয়েকদিন পরপরই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালেও একে ইতিবাচক হিসেবেই দেখেন ট্রাম্প। তবে পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় ট্রাম্পের ইতিবাচকতা খুব একটা ভালোভাবে নেননি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। আবার ইউরোপীয় নেতাদের আশঙ্কা, এবারের সম্মেলনে রাশিয়াকে ফের জি-৭ জোটে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব তুলতে পারেন ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে আগেই অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রধান ডোনাল্ড টাস্ক।

এদিকে জি-৭ সম্মেলন চলাকালে গতকাল হঠাৎই ফ্রান্স সফরে গিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ। বিয়াররিৎস নামে যে শহরে সম্মেলনটি চলছে, সেখানেই তিনি পরমাণু চুক্তি ইস্যুতে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্য-ভেস লা দ্রিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ফ্রান্সের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা নেই জারিফের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জারিফের এই সফরের ফলে জি-৭ সম্মেলনে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে ট্রাম্পের মতদ্বৈধ আরও প্রকট হতে পারে।