পুড়ছে আমাজন

আরও সহস্রাধিক স্থানে আগুন

মাক্রোনের সঙ্গে ফোনে বোলসোনারোর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯      

বিশ্বের সর্ববৃহৎ চিরহরিৎ বন আমাজনের ব্রাজিল অংশে সহস্রাধিক স্থানে নতুন করে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। শনিবার এ তথ্য জানা গেছে। আমাজনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পোপ ফ্রান্সিস। তিনি এই বনকে পৃথিবীর জন্য 'অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ' ফুসফুস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বিশ্বব্যাপী ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের আমাজনের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করতে আহ্বান জানিয়েছেন। খবর এএফপির।

ব্রাজিলের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রনডোনিয়া প্রদেশের আমাজন বন থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী বেরোতে দেখা গেছে শুক্রবার। রাজ্যটির রাজধানী পোর্তো ভেলোর অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, ধোঁয়া এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যেন মনে হচ্ছে পুরো শহরের আকাশ মেঘে ঢেকে গেছে। সিলভা নামের সেখানকার এক বাসিন্দা জানান, তিনি জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে বেশ চিন্তিত। তার নিজের মেয়ে ধোঁয়ায় ভুগছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি বছর ব্রাজিল অংশের আমাজনে ৭৮ হাজার ৩৮৩টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৩ সালের পর যা সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, কৃষিকাজ, পশু পালন এবং বিভিন্ন খনির খননকাজের জন্য ইচ্ছে করেই এসব আগুন লাগাচ্ছে বড় বড় কোম্পানি। ব্রাজিলের জাতীয় মহাকাশ গবেষণা (আইএনপিই) জানিয়েছে, গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার এ দু'দিনে আমাজনে এক হাজার ৬৬৩টি নতুন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। যেখানে প্রায় ২০ কোটির বেশি মানুষের বাস এবং তারা জীবিকা নির্বাহে আমাজনের ওপর নির্ভরশীল। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো আমাজনের আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত জানানোর একদিন পরেই এ তথ্য জানা গেল। অবশ্য আইএনপিইর তথ্যকে মিথ্যা বলে বরাবরই প্রত্যাখ্যান করেছেন বোলসোনারো।

শুক্রবার ব্রাজিলসহ দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে এবং ইউরোপে আমাজনে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিষ্ফ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করায় ব্রাজিল সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। জানুয়ারিতে ক্ষমতা নেওয়া বোলসোনারো পরিবেশবিরোধী হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, আমাজন ধ্বংসের জন্য এনজিওগুলো দায়ী। পরিবেশবাদীরা বলেন, বোলসোনারোর লোভেই পুড়ছে আমাজন। এদিকে, আমাজনের আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্রাজিলকে ব্যাপক চাপ দিচ্ছে ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বোলসোনারো। এ সময় দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। মাক্রোনকে 'ঔপনিবেশিক মানসিকতার অধিকারী' বলে মন্তব্য করেছেন বোলসোনারো।