কাশ্মীর অবরুদ্ধের ২০ দিন

অহিংস বিক্ষোভের ডাক

কাশ্মীরিদের পরিস্থিতি ভালো নয় :রাহুল গান্ধী, ভারতকে ফের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

অহিংস বিক্ষোভের ডাক

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরকে অবরুদ্ধ করে রাখার প্রতিবাদে শনিবার পাকিস্তানের লাহোরে বিক্ষোভ করেন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ -এএফপি

ভারতশাসিত জম্মু-কাশ্মীরে অহিংস ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন এ অঞ্চলের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলনকারী বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সৈয়দ আলী শাহ গিলানি। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে কেন্দ্র শাসন জারি করে বিপুলসংখ্যক সেনা-পুলিশ মোতায়েন করায় কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে সেখানকার মানুষ। অবরুদ্ধের টানা ২০ দিনে যখনই কারফিউ শিথিল করা হয়েছে, তখনই কাশ্মীরিরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করার চেষ্টা করেছেন। গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ হয়। ফলে আবারও কারফিউ জারি করা হয়। এর মধ্যেই গতকাল রোববার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে কাশ্মীরিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শাহ গিলানি। এদিকে, জনপদে ঢুকতে না দিয়ে গত শনিবার কাশ্মীরের শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তার সফরসঙ্গীদের। দিল্লিতে ফিরে এসে তিনি বলেছেন, কাশ্মীর পরিস্থিতি ভালো নয়। এ ছাড়া গতকাল কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেছেন, কাশ্মীরিদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া 'রাজনীতি ও রাষ্ট্রবিরোধী' ছাড়া কিছু নয়। অন্যদিকে, ভারতের বিরুদ্ধে আবারও যুদ্ধ বাধানোর পাঁয়তারার অভিযোগ করেছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিশেষ তথ্য কর্মকর্তা ড. ফিরদাউস আশিক আওয়ান গতকাল বলেছেন, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং যুদ্ধের উস্কানি দিচ্ছেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ভারত যদি যুদ্ধ বাধায়, তাহলে তা শেষ করবে পাকিস্তান। তবে এর শেষবিন্দু হবে নয়াদিল্লি। এদিকে, কাশ্মীরের সচিবালয় ভবন থেকে নামিয়ে ফেলা হয়েছে কাশ্মীর রাজ্যের নিজস্ব পতাকা। সেখানে এখন টানানো হয়েছে ভারতীয় তিন রঙের পতাকা। খবর কাশ্মীর ওয়াচ, ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি ও দ্য ডনের।

কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা শাহ গিলানি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ডাক দিয়ে বলেছেন, জম্মু-কাশ্মীরের জনগণের কাছে আমাদের আন্তরিক আবেদন, এই সংকটময় মুহূর্তে আমাদের অবশ্যই প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে হবে। সাধ্য অনুযায়ী, আমাদের সবারই এই প্রতিরোধে অংশ নেওয়া উচিত। জনগণের উচিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আয়োজন করা এবং নিজ নিজ এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করা। ভারত সরকার কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বিলোপ করে একে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করেছে। এর একাংশে রয়েছে জম্মু-কাশ্মীর এবং অন্য অংশে লাদাখ। গত ৫ ডিসেম্বরের ওই ঘটনার পর থেকে গৃহবন্দি রয়েছেন হুরিয়াত নেতা শাহ গিলানি। তার মতোই গৃহবন্দি অবস্থায় আছেন জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহ। এদিকে কাশ্মীরে গণহত্যা থেকে বিরত থাকতে ভারতকে সতর্ক করার আহ্বান জানিয়েছে 'জেনোসাইড ওয়াচ' নামের একটি সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওই গণহত্যা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ ও এর সদস্য দেশগুলোকে এই আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট গ্রেগরি এইচ স্ট্যান্টন এরই মধ্যে সংঘটিত সাতটি ঘটনার পাশাপাশি আরও ১০টি সম্ভাব্যতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এ সতর্কতা জারির আহ্বান জানিয়েছেন। জেনোসাইড ওয়াচ বিশ্বে গণহত্যা প্রতিরোধ, নিরসন ও এ-সংক্রান্ত অপরাধে শাস্তি নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করে। পাশাপাশি সম্ভাব্য গণহত্যা এবং সংঘটিত গণহত্যা সম্পর্কে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করে।

জম্মু-কাশ্মীরের সচিবালয় থেকে নামিয়ে ফেলা হয়েছে রাজ্যটির নিজস্ব পতাকা। তার বদলে সেখানে এখন টাঙানো হয়েছে ভারতের তিন রঙের জাতীয় পতাকা। আগামী ৩১ অক্টোবর কাশ্মীরের রাজ্য থেকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের যাত্রা শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। তার আগেই সব সরকারি অফিস-আদালত থেকে কাশ্মীরের জাতীয় পতাকা সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সময় বিশেষ শর্তে নিজস্ব পতাকার মালিক হয় ভারতীয় কাশ্মীরিরা। আর তাদের এ অধিকারের রক্ষাকবচ ছিল ভারতের সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ।