বিক্ষোভকারীদের সংলাপে আহ্বান ক্যারি লামের

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

প্রত্যর্পণ বিল প্রত্যাহারের ঘোষণার পর এবার বিক্ষোভকারীদের সরকারের সঙ্গে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম। গতকাল বৃহস্পতিবার এ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'প্রত্যর্পণ বিল প্রত্যাহারে সমর্থন দিয়েছে বেইজিং।' গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকারীরা ভিন্ন সুরে কথা বলছেন। তাদের বক্তব্য, খুব দেরি করে ফেলেছেন লাম। যদি দুই মাস আগেও তিনি এ ঘোষণা দিতেন, তাহলে পরিস্থিতি এত জটিল হতো না। অন্য চার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। খবর এএফপি ও বিবিসির।

হংকংয়ের অভিযুক্ত নাগরিকদের বিচারের জন্য প্রয়োজনে চীনের মূল ভূখণ্ডে পাঠানোর সুযোগ রেখে প্রস্তাবিত প্রত্যর্পণ বিল পুরোপুরি প্রত্যাহারসহ পাঁচ দাবিতে টানা তিন মাস আন্দোলন করেছেন বিক্ষোভকারী। এ বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন নারী-শিশু থেকে ছাত্র-শিক্ষক-জনতা, সরকারি কর্মকর্তারাও। বিক্ষোভের সময় হংকং সরকার গঠনে প্রার্থী বাছাই ও নির্বাচনে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি কার্যকরের দাবিটি যুক্ত হয়েছে। দাবি আদায়ে রাস্তায় নেমে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বারবার সংঘর্ষ হয়েছে। এর মধ্যে বিক্ষোভকারীদের বিদেশি মদদপুষ্ট 'সন্ত্রাসী, দাঙ্গাবাজ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী' হিসেবে আখ্যা দিয়েছে চীন। অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ অবস্থায় বুধবার ক্যারি লাম প্রত্যর্পণ বিল প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। গতকাল তিনি দাবি করেন, তার এ ঘোষণার পেছনে চীনের হাত নেই। হংকংবাসীর জীবন ও সম্পদ রক্ষা এবং উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তবে অন্য চার দাবি মানতে নারাজ ক্যারি লাম। দাবিগুলো হলো- পুলিশি নিপীড়নের সুষ্ঠু তদন্ত, গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি, বিক্ষোভকারীদের 'দাঙ্গাবাজ' না বলা এবং সবার জন্য সর্বজনীন গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার। এর মধ্যে চার নম্বর দফাটি চীনের মাথাব্যথার বড় কারণ। হংকংয়ে নির্বাচন হয় চীনের আদলে দলীয় পর্যায়ে বাছাইকৃত প্রার্থীদের নিয়ে। যে কেউ চাইলেই ভোটে দাঁড়াতে পারেন না। ফলে হংকংয়ের চীনপন্থি ক্যারি লামের পক্ষে সর্বজনীন ভোটাধিকারের দাবি মানা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় এ চার দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শনিবার নতুন করে বিক্ষোভ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন গণতন্ত্রপন্থিরা। ফলে প্রত্যর্পণ বিল প্রত্যাহারের ঘোষণার মধ্য দিয়ে হংকং সংকট সমাধান হচ্ছে, এমনটি বলার সুযোগ নেই।