সংকটে জনসন

আপস না বিদায়

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

মহাবিপাকে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। বুধবার রাতে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে দুই দফায় পরাজিত হয়েছেন তিনি। আগাম নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জনসন পার্লামেন্টে যে প্রস্তাব এনেছিলেন তা দুই-তৃতীয়াংশ এমপির সমর্থন না পাওয়ায় খারিজ হয়ে গেছে। এর আগে ওই দিন রাতেই এমপিরা চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের বিষয়টি আটকে দিয়ে একটি বিল পাস করেন পার্লামেন্টে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া ব্রেক্সিট নামে পরিচিত। চুক্তিহীন ব্রেক্সিট আটকাতে বিরোধীদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির ২১ এমপিও যোগ দিয়েছেন। যাদের ইতিমধ্যে পার্টি থেকে বরখাস্ত করেছেন জনসন। তারা আগামী নির্বাচনে দলের হয়ে লড়তে পারবেন না। চুক্তিহীন ব্রেক্সিট আটকাতে কমন্সে যে বিল পাস হয়েছে সেটি এখন উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে যাবে। আজ শুক্রবারই বিলটি লর্ডসে পাস হতে পারে। সরকারি দলের এমপিরাও বিলটি নিয়ে বিরোধিতা না করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এরপর রানীর সম্মতির জন্য সেটি পাঠানো হবে। লর্ডসে বিলটি পাস হয়ে গেলে জনসনকে ইইউর সঙ্গে আপস করতে হবে চুক্তিসহ ব্রেক্সিট সম্পন্ন করতে। সে ক্ষেত্রে ৩১ অক্টোবর ব্রেক্সিট না হয়ে তা ঝুলে যেতে পারে। কিন্তু কট্টরপন্থি জনসন বরাবরই বলে আসছেন, যে কোনো উপায়ে ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই তিনি ব্রেক্সিট সম্পন্ন করতে চান। এর জন্য তিনি ইইউর কাছে ধরনা দেবেন না। কিন্তু বিষয়টি এখন তার হাতে নেই। ফলে নিজের ইমেজ রক্ষা করতে তিনি বিদায়ও (পদত্যাগ) বলে দিতে পারেন। ব্রেক্সিট কার্যকরে ব্যর্থতার দায় নিয়ে যেমন বিদায় নিতে হয়েছে তার পূর্বসূরি তেরেসা মেকে। এদিকে গতকাল লন্ডন হাইকোর্ট জানিয়েছেন, 'ক্ষমতার অপব্যবহার করে' আগামী পাঁচ সপ্তাহের জন্য পার্লামেন্ট স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জনসন।

ব্রেক্সিট নিয়ে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক সংকট যে রকম চরমে পৌঁছেছে, তা দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। বুধবার রাতে বিরোধীরা যে বিলটি পাস করিয়ে নিয়েছেন, তাতে ব্রেক্সিট প্রশ্নে সরকারের ভূমিকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এই বিলের মাধ্যমে বলা হয়েছে, জনসনকে ইইউর সঙ্গে একটি সমঝোতা করে চুক্তিসহ ব্রেক্সিট সম্পন্নের উপায় পার্লামেন্টে তুলতে হবে। তা যদি তিনি না পারেন তাহলে ইইউকে আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ব্রেক্সিট পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানাতে হবে। জনসন কী ভাষায় ইইউর কাছে চিঠি পাঠিয়ে সে অনুরোধ জানাবেন তাও বিলের মাধ্যমে

নির্ধারণ করে দিয়েছেন বিরোধীরা। অর্থাৎ,

বিলটি জনসনের জন্য ইইউর কাছে আত্মসমপর্ণের শামিল।

এই বিল পাস হওয়ার পর জনসন আগামী ১৫ অক্টোবর আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব আনেন। আগাম নির্বাচন করতে হলে দুই-তৃতীয়াংশ এমপির সমর্থন লাগে। কিন্তু জনসন বুধবার তা পাননি। তার আগাম নির্বাচনের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছে ২৯৮টি। বিপক্ষে পড়েছে ৫৬টি। বাকি বিরোধী এমপিরা ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। জনসনকে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেতে আরও ১৩৬ ভোটের প্রয়োজন ছিল। জনসন বলেন, সরকার নির্বাচন দিতে চাচ্ছে কিন্তু বিরোধীরা তা প্রত্যাখ্যান করছে, এটা নজিরবিহীন। এর আগে তিনি বলেন, সরকারের আনা একের পর এক প্রস্তাব যদি পার্লামেন্ট পাস না করে তাহলে সরকার পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তবে বিরোধী দল লেবার পার্টি বলেছে, তারা আগাম নির্বাচনের বিরোধী নয়। কিন্তু এই মুহূর্তে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট বন্ধ করাই দলটির প্রথম অগ্রাধিকার।

চুক্তিহীন ব্রেক্সিট আটকাতে যে বিলটি বিরোধীরা পাস করেছে, তা এখন হাউস অব লর্ডসে পাঠানো হবে। লর্ডসে কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যরা বিলটি আটকানোর ব্যাপারে আলোচনা করেছিলেন। আগামী মঙ্গলবার পার্লামেন্ট স্থগিতের আগ পর্যন্ত তারা বিলটি আটকে রাখতে চেয়েছিলেন। তবে গতকাল বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কনজারভেটিভ সদস্যরা এখন আর বিলটি আটকানোর চেষ্টা করবেন না। রয়টার্স আরও জানিয়েছে, জনসন আগাম নির্বাচনের জন্য গতকাল থেকে ক্যাম্পেইনও শুরু করেছেন। জনসনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, পার্লামেন্ট ব্যর্থ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী এখন জনগণকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আহ্বান জানাবেন। বিবিসি জানিয়েছে, তাত্ত্বিকভাবে জনসনের সামনে আগাম নির্বাচনের আরেকটি পথ খোলা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে তাকে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পাওয়ার প্রয়োজন নেই বরং সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেই হবে। ৩১ অক্টোবরের আগেই যদি সেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়, তাহলে কীভাবে ব্রেক্সিট সম্পন্ন হবে তা নির্ভর করবে নির্বাচনের ফলাফলের ওপর। বিশ্নেষকরা বলছেন, যুক্তরাজ্যে এতসব বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটছে যে আগে থেকে কিছু পূর্বানুমান করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র :বিবিসি ও রয়টার্স।