আফগানিস্তানের তালেবান নেতাদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাস্প। শনিবার এক টুইটে ট্রাম্প জানান, তিনি রোববার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডে তালেবানের প্রধান নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের পরিকল্পনা করেছিলেন। আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সঙ্গেও বৈঠকের পরিকল্পনা ছিল তার। তবে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে আত্মঘাতী হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের এক সেনাসহ ১২ জনকে হত্যার দায় স্বীকার করে তালেবান। বৃহস্পতিবার ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এরপরই শনিবার তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা বাতিল করলেন ট্রাম্প। যিনি দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে চলা আফগান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছিলেন। বিশ্নেষকরা বলছেন, এখন তা অনেকটাই কঠিন হয়ে গেল। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

ট্রাম্প টুইটে বলেছেন, 'অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শান্তি বৈঠক চলাকালে তারা যদি অস্ত্রবিরতিতে রাজি না হয় এবং ১২ জন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে তাহলে তারা সম্ভবত তাৎপর্যপূর্ণ এই চুক্তির ব্যাপারে আলোচনা করার ক্ষমতা রাখে না।' ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পরই দোহায় তালেবানের শীর্ষ নেতাদের একটি বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছিল বিবিসি। আর আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি জানিয়েছেন, তালেবান অস্ত্রবিরতিতে রাজি হলে এবং আফগান সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসলেই একমাত্র প্রকৃত শান্তি অর্জন করা সম্ভব।

কিন্তু ট্রাম্পের এই ঘোষণা প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎকে হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে তালেবানের শীর্ষ নেতারাও বেশ বিস্মিত  হয়েছেন। তালেবানের সঙ্গে আপস আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে প্রধান আলোচকের ভূমিকা পালন করছেন জালমে খলিলজাদ। গত সোমবারই তিনি তালেবানের সঙ্গে 'নীতিগতভাবে' একটি শান্তি চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন।

কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান প্রতিনিধিদের মধ্যে নয় দফা আলোচনার পর সমঝোতার এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। প্রস্তাবিত ওই চুক্তি অনুযায়ী, ২০ সপ্তাহের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫ হাজার ৪০০ সেনা প্রত্যাহারের কথা ছিল। বর্তমানে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ হাজার সেনা অবস্থান করছে।

মন্তব্য করুন