ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য আসামের গোয়ালপাড়া জেলার নদীতীরবর্তী এক দুর্গম এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে ডিটেনশন ক্যাম্প বা বন্দিশালা। রাজ্যটিতে নতুন করে যে ১০টি বন্দিশালা নির্মাণ করার ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার তার একটি এটি। বন পরিস্কার করে প্রায় সাতটি ফুটবল মাঠের সমান জায়গা নিয়ে তৈরি হচ্ছে বন্দিশালাটি। তবে এখানে যারা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন তাদের অনেকের নাম নেই সদ্য প্রকাশিত নাগরিক নিবন্ধন তালিকা বা এনআরসিতে। গত ৩১ আগস্ট এই নাগরিক তালিকা প্রকাশিত হয় এবং তাতে নাম ওঠেনি ১৯ লাখ মানুষের। তাদের জন্যই এসব বন্দিশালা। যারা এ বন্দিশালাগুলো তৈরি করছেন তাদের অনেকেই হয়তো কিছুদিন পর নিজেদের সেখানে দেখবেন আটক অবস্থায়।

বন্দিশালাটি ৩ হাজার মানুষকে আটকে রাখার বন্দোবস্ত করে তৈরি করা হচ্ছে। উঁচু দেয়ালে ঘেরা এসব বন্দিশালায় থাকবে স্কুল, হাসপাতাল এবং নিরাপত্তারক্ষীদের জন্য আবাস। শেফালি হাজং নামে এক হাড্ডি-চর্মসার আদিবাসী নারী বন্দিশালাটির নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। এই নারীর নাম এনআরসিতে ওঠেনি। হাজং সম্প্রদায়ের এই নারী জানান, সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি খুবই চিন্তিত। তবে দিন শেষে কিছু খেয়ে তো তাকে বেঁচে থাকতে হবে। সে জন্যই এ বন্দিশালার নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে তিনি কাজ নিয়েছেন। এখানে দিনে ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা মজুরি পান তিনি। নিজের জন্মের সাল-তারিখ কিছু জানা না থাকলেও তার বয়স ২৬ এর কাছাকাছি হবে বলে তিনি জানালেন। তার নামটি কেন এনআরসিতে ওঠেনি তা তিনি জানেন না। শেফালির মা মালতি হাজংও ওই বন্দিশালার নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি জানান, তাদের কোনো জন্মসনদ নেই।

এসব বন্দিশালায় নারী ও পুরুষের আলাদাভাবে আটকে রাখার ব্যবস্থা থাকছে। শফিকুল হক নামের এক ব্যক্তি বন্দিশালাটির ভেতরে রান্নার জায়গা নির্মাণের তদারক করছেন। তিনি জানান, আশপাশের অনেক গ্রামের মানুষ এখানে এসে প্রতিদিনই কাজের সন্ধান করেন। স্থানীয় পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রাথমিকভাবে আসামের জেলগুলোতে থাকা ৯০০ অবৈধ অধিবাসীকে এই ক্যাম্পে রাখা হবে। গত বছর ভারতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি দল জেলের ওই আটক কেন্দ্রগুলোর দুটি পরিদর্শন করে। পরে দলটির সদস্যরা মন্তব্য করেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আটক কেন্দ্রগুলোতে থাকা বাসিন্দারা এমনকি দি ত অপরাধীদের চেয়েও কম অধিকার পান।

গোয়ালপাড়ায় নির্মাণাধীন বন্দিশালাতে সারজিনি হাজং নামের ৩৫ বছরের আরও একজন নারী শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। তার নামটিও এনআরসিতে ওঠেনি। তার কোনো জন্মসনদও নেই। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই চিন্তিত আদিবাসী হাজং সম্প্রদায়ের এই নারী জানান, 'কী করব তার কোনো দিশা পাচ্ছি না। তবে এখন বেঁচে থাকতে সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটি দরকার তা হালো টাকা।' সূত্র :রয়টার্স।

মন্তব্য করুন