আগাম নির্বাচনের 'শেষ' চেষ্টা জনসনের

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

দু'মাসও হয়নি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদে বসেছেন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা বরিস জনসন। এই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি পার্লামেন্টে কয়েক দফায় পরাজিত হয়েছেন। সরকার পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে, চুক্তিহীন ব্রেক্সিট আটকাতে একটি বিল পাস করিয়ে নিয়েছে বিরোধীরা এবং আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব তুলেও হেরেছেন জনসন। ব্রিটেনের ইতিহাসে যা বিরল। জনসন বোধ হয় স্কটিশ রাজা রবার্ট ব্রুসের দ্বারা অনুপ্রাণিত, যিনি অসংখ্যবার যুদ্ধে পরাজয় বরণ করেও হাল ছাড়েননি। ব্রুসের পথ অনুসরণ করে সোমবার ফের পার্লামেন্টে আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব তুলবেন জনসন। চুক্তিহীন ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে এই আগাম নির্বাচনের প্রস্তাবই হবে তার শেষ প্রচেষ্টা। তবে বিরোধীরাও তার এই প্রস্তাব ফের ভণ্ডুল করে দিতে প্রস্তুত। খবর রয়টার্স ও বিবিসির।

কট্টর ব্রেক্সিটপন্থি জনসন নির্ধারিত ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বিচ্ছেদ চান। তবে বিরোধী ও টোরি পার্টিরই ২১ বিদ্রোহী এমপি তার এই ইচ্ছার কফিনে পেরেক ঠুকে দিয়েছেন। বাঁচার একমাত্র পথ তাই আগাম নির্বাচন। আর সেটিও পাস হতে হবে সোমবারই। কারণ এর পরদিন থেকেই পাঁচ সপ্তাহের জন্য স্থগিত হয়ে যাচ্ছে পার্লামেন্ট এবং তা জনসনের ইচ্ছাতেই। এখানে জনসন নিজেই নিজের ফাঁদে আটকা পড়েছেন। কারণ সোমবারই রানীর সম্মতিতে ব্রেক্সিট বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বিল অনুযায়ী ইইউর সঙ্গে ব্রেক্সিট ইস্যুতে একটি চুক্তিতে পৌঁছে তা আগামী ১৯ অক্টোবরের মধ্যে পার্লামেন্টে পাস করিয়ে নিতে হবে জনসনকে। তা না হলে ব্রেক্সিট ঝুলে যাবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। এমন পরিস্থিতি দেখে জনসন বলেছিলেন, এর চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়।

গতকাল আয়ারল্যান্ড সফর করেছেন জনসন। আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। জনসন বলেছেন, নির্ধারিত তারিখে ব্রেক্সিট ব্যর্থ হলে তার দায় যুক্তরাজ্য এবং আয়ারল্যান্ড উভয় দেশের সরকারকেই নিতে হবে। উভয়েই ব্রেক্সিটকে সমর্থন দিলেও এর প্রক্রিয়া নিয়ে দুই নেতার মতবিরোধ রয়েছে।