ব্রেক্সিট অনিশ্চয়তা

জনসনের দ্বিমুখী অবস্থান

ইইউকে দুই ধরনের চিঠি, ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই চুক্তি কার্যকরে অনড় প্রধানমন্ত্রী, পর্যালোচনায় ইইউ নেতারা

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বিচ্ছেদ (ব্রেক্সিট) প্রক্রিয়া আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। শনিবার নিজের করা ব্রেক্সিট চুক্তি পার্লামেন্টে পাস করাতে ব্যর্থ হন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এর পরই পার্লামেন্টে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী ইইউর কাছে ব্রেক্সিট পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে চিঠি দেন জনসন। যদিও সে চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর কোনো স্বাক্ষর ছিল না। পাশাপাশি ইইউর কাছে আরেকটি চিঠি পাঠিয়েছেন জনসন। তাতে তিনি বলেছেন, ব্রেক্সিট পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে 'ভুল'। দ্বিতীয় এ চিঠিটিতে সই করেছেন জনসন। এই টানাপোড়েনের মধ্যে জনসন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, নির্ধারিত ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই ব্রেক্সিট সম্পন্ন করা হবে এবং এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী অনড় অবস্থানে রয়েছেন। খবর রয়টার্স ও বিবিসির।

নির্ধারিত তারিখে ব্রেক্সিট সম্পন্ন করতে হলে জনসনের হাতে আর সময় আছে মাত্র দশ দিন। শেষ পর্যন্ত ব্রেক্সিট নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, তা পরিস্কার নয় এখনও। জনসন যাই করুন না কেন, তাতে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সমর্থন না দিলে ব্রেক্সিট সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এর আগে জনসন বারবার বলেছেন, 'মরে গেলেও ইইউর কাছে ব্রেক্সিট পেছানোর আবেদন করবেন না তিনি।' দিন শেষে অবশ্য তাকে ইইউর কাছে ব্রেক্সিট পেছানোর প্রস্তাব পাঠাতে হয়েছে। ইইউ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক ব্রেক্সিট পেছানোর অনুরোধ করে জনসনের পাঠানো চিঠি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ইইউ নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে করণীয় নির্ধারণ করবেন তিনি।

অন্যদিকে ব্রিটিশ সরকারের একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইইউ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট টাস্কের কাছে মোট তিনটি চিঠি পাঠিয়েছেন জনসন। এর মধ্যে একটি বিরোধী এমপিদের পাস করা বেন অ্যাক্ট নামের সেই আইনের ফটোকপি, যা জনসনকে চিঠি লিখতে বাধ্য করেছে। অন্যটি ইইউতে নিযুক্ত ব্রিটিশ দূতের পাঠানো একটি নোট। যাতে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ সরকার শুধু ওই আইন অনুযায়ী কাজ করছে। আর আরেকটি চিঠিতে জনসনের সই রয়েছে এবং তিনি লিখেছেন, ব্রেক্সিট সম্পন্ন করতে আর সময় বাড়াতে চান না। পরে জনসন তার সহকর্মী ও ইইউ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট টাস্ককে বলেছেন, 'সইবিহীন চিঠিটি পার্লামেন্টের চিঠি, তার চিঠি নয়।'

জনসনের সই করা চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে প্রকাশ করেছেন ফিনান্সিয়াল টাইমসের ব্রাসেলসের প্রতিনিধি। ওই চিঠিতে জনসন লিখেছেন, 'প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই আমি বলে আসছি এবং আজ (শনিবার) পার্লামেন্টকেও বলেছি, আমার দৃষ্টিভঙ্গি ও সরকারের অবস্থান হচ্ছে, সময় আরও বাড়ালে যুক্তরাজ্য ও ইইউর অংশীদারদের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ক ও স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।' তিনি চিঠিতে আরও লিখেছেন, ৩১ অক্টোবরের আগেই ব্রিটিশ পার্লামেন্টের মাধ্যমে ব্রেক্সিটসংক্রান্ত আইনগুলো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে। জনসনের কথার প্রতিধ্বনি শোনা গেছে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাবের কণ্ঠেও। তিনি বলেছেন, ইইউর সঙ্গে নতুন চুক্তি করে প্রধানমন্ত্রী সবার সন্দেহ দূর করেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ব্রেক্সিট সম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রী বদ্ধপরিকর। আরেক টোরি এমপি মাইকেল গভ বলেছেন, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ইইউ ছাড়ার ক্ষমতা সরকারের আছে।

তবে জনসনের দুটি আলাদা চিঠি পাঠানোর বিষয়টিকে 'সাংঘর্ষিক' ও 'শিশুসুলভ' বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির এমপিরা। জনসনের প্রস্তাবিত চুক্তি বাস্তবায়নযোগ্য কি-না, তা আরও যাচাই করে দেখতে সময় নেওয়ার পক্ষে শনিবার ভোট দিয়েছেন এমপিরা। চুক্তিটি নিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার ভোটাভুটি হতে পারে। তবে লেবার পার্টি এতে সংশোধন চায়। দলটির দাবি, এতে শ্রমিকদের অধিকার ও পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টির উল্লেখ করতে হবে। তা না হলে দলটির এমপিরা ফের এর বিপক্ষে ভোট দেবেন। তবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোন বলেছেন, ব্রেক্সিট বিলম্ব করার বিষয়ে ইইউর কারও আগ্রহ নেই। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের এক কর্মকর্তার বরাতে এ কথা জানা গেছে; কিন্তু তার পরও ইইউ ব্রিটেনের ব্রেক্সিট পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করবে না বলেই মনে হয়।