গুলি করলেও বিচার হবে না পুলিশের

হংকংয়ে বিধিতে পরিবর্তন

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ের পুলিশকে আরও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ পুলিশের শক্তি প্রয়োগের ব্যাপারে বিধিনিষেধ আরোপ করে যে নীতিমালা রয়েছে, তা শিথিল করা হয়েছে। আইনের একটি ধারা তুলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করলে সংশ্নিষ্ট পুলিশ সদস্যকে জবাবদিহির আওতায় আনার বিধান ছিল। এখন এ বিধান তুলে দেওয়ায় পুলিশ কাউকে গুলি করলেও এ জন্য তাকে আর কৈফিয়ত দিতে হবে না। এর ফলে বিক্ষোভকারীদের জীবন আরও ঝুঁকির মুখে পড়ে গেল। গতকাল বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

গত মঙ্গলবার গণচীন প্রতিষ্ঠার ৭০ বছর পূর্তিতে হংকংয়ে পুলিশের সঙ্গে গণতন্ত্রপন্থিদের নজিরবিহীন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর পরই পুলিশকে আরও ক্ষমতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই বিক্ষোভেই প্রথমবারের মতো গুলি চালায় পুলিশ। তাতে ১৮ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী সাং চি-কিন গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশ নির্দেশিকায় পরিবর্তন করার ফলে, অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করলে পুলিশ সদস্যদের জবাবদিহির আওতায় আনার যে বিধান এতদিন ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। এ বিধান ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে বলে নথিতে বলা হয়েছে। হংকংয়ের পুলিশ কর্তৃপক্ষ পুলিশ নির্দেশিকায় পরিবর্তনের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হয়নি। হংকং পুলিশের পেশাদারিত্বের একটি সুনাম রয়েছে। তবে সম্প্রতি বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বল প্রয়োগের ঘটনায় এ সুনাম ডুবতে বসেছে। হংকংয়ের জনগণও পুলিশ বাহিনীর ওপর দিন দিন আস্থা হারিয়ে ফেলছে। তবে পুলিশের দাবি, তারা ধৈর্যের সঙ্গে সবকিছু সামলানোর চেষ্টা করছে। গত চার মাসের টানা বিক্ষোভে বিভিন্ন সময় হংকংয়ের পুলিশ ও গণতন্ত্রপন্থিরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়। চীনে বন্দি প্রত্যর্পণ বিলের বিরোধিতা করে শুরু হওয়া আন্দোলনটি এখন স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের দাবিতে গিয়ে পৌঁছেছে।

বিক্ষোভ দমাতে মুখোশ নিষিদ্ধের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে হংকংয়ের প্রশাসন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পুলিশকে যে জরুরি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, সে আইনের অধীনেই মুখোশ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হংকংয়ের নির্বাহী কাউন্সিলে এ সিদ্ধান্ত হয়। অন্যদিকে মঙ্গলবার পুলিশের গুলিতে আহত কিশোর সাংয়ের বিরুদ্ধে দাঙ্গা বাধানো ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ অভিযোগ প্রমাণ হলে তার ১০ বছরের জেল হতে পারে। গতকাল অবশ্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংয়ের পক্ষে আদালতে শুনানি করেছেন এক আইনজীবী। পুলিশ নির্দেশিকায় পরিবর্তন আনার কারণে সাংকে যে পুলিশ কর্মকর্তা গুলি করেছেন, তিনি জবাবদিহির আওতায় আসবেন কি-না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

এদিকে গত রোববারের সংঘর্ষের সময় পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে ইন্দোনেশিয়ার নারী সাংবাদিকের ডান চোখ অন্ধ হয়ে গেছে। আহত সাংবাদিকের নাম ভেবি মেগা ইন্দাহ। রোববার সংঘর্ষের সময় পুলিশের রাবার বুলেট তার সুরক্ষিত চশমা ভেদ করে চোখে আঘাত হানে। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে পুলিশকে গুলি করতে নিষেধ করার পরও তাকে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।