এবার যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি অবৈধ ইহুদি বসতিতে

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

দখলকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনকে বৈধ মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে বসতি স্থাপনে কোনো অসঙ্গতি নেই বলেও মনে করে দেশটি। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এ কথা জানিয়েছেন। ২০১৭ সালে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর ইহুদিবাদীদের পক্ষে এটি ওয়াশিংটনের আরেকটি বড় পদক্ষেপ। খবর আলজাজিরার।

পম্পেও বলেন, 'ইসরায়েলের বসতি স্থাপন নিয়ে সবধরনের আইনি তর্কবিতর্ক সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখেছে ওয়াশিংটন। তাতে দেখা গেছে, পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।' প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৮ সালের যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনি ভিত্তি মেনে চলতে বাধ্য নয় বলে জানিয়েছেন পম্পেও। ওই নীতি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হওয়ায় পশ্চিমতীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনে সমর্থন দেয় না ওয়াশিংটন।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বেশ কিছু প্রস্তাবের মধ্যে সর্বশেষ ২০১৬ সালের প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন সম্পূর্ণ অবৈধ। এটি চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের বিরোধী। বসতি স্থাপনে সম্মতি দিয়ে পম্পেওর ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিন। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র বলেছেন, 'ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক আইন বাতিল বা প্রণয়নের যথাযোগ্য কর্তৃপক্ষ নয়। অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনে সায় দেওয়ার কোনো অধিকার তাদের নেই।' জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের সিদ্ধান্তের পরিণতি হবে ভয়াবহ।

দখলকৃত পশ্চিমতীর ও পূর্ব জেরুজালেম মিলিয়ে ছয় লাখের বেশি ইসরায়েলি অবৈধ বসতি গড়েছে। এসব অঞ্চলে ত্রিশ লাখ ফিলিস্তিনিরও বসতি রয়েছে। সোমবার ফিলিস্তিনের বিপক্ষে আরেক দফা বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ নিল যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৭ সালে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ওয়াশিংটন। পরের বছরই সেখানে দূতাবাস খোলে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া ওই বছরই জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক তহবিলে অর্থ সহায়তা বন্ধ করে দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। সর্বশেষ গত মার্চে ইসরায়েলের দখলকৃত গোলান মালভূমিকেও স্বীকৃতি দেন ট্রাম্প। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্সও ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন।