বিক্ষোভকারীদের নিয়ে টানটান উত্তেজনা

হংকং সংকট

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে হংকং সংকট। গতকাল মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের মতো পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শতাধিক বিক্ষোভকারীকে অবরুদ্ধ করে রাখে দাঙ্গা পুলিশ। হংকংয়ের চীনপন্থি প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম তাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে অবরুদ্ধ বিক্ষোভকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। চরম উদ্বেগজনক পরিস্থতিতে দিন পার করছেন গণতন্ত্রপন্থিদের অভিভাবকরা। চীন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে হংকংজুড়ে। খবর এএফপির।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাকে গত জুন থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। রোববার কৌলুন অঞ্চলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় কয়েক হাজার গণতন্ত্রপন্থি পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আশ্রয় নেয়। তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। তাদের বেশিরভাগই তরুণ। অনেকের বয়স আঠারোর নিচে। গতকাল সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটলেও রবি ও সোমবার পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল ১০০ থেকে ২০০ বিক্ষোভকারী ক্যাম্পাসে আটকে ছিল। সকালে ১৮ বছরের নিচে অন্তত ২০০ বিক্ষোভকারীকে তাদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা ক্যাম্পাস থেকে বের করে নিয়ে যান। সব মিলিয়ে ৬০০ বিক্ষোভকারী ক্যাম্পাস ছেড়েছে বলে গতকাল জানিয়েছেন লাম। অপ্রাপ্তবয়স্ক বিক্ষোভকারীদের ছেড়ে দেওয়া হলেও বহু প্রাপ্তবয়স্ক বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

বিশ্ববিদ্যালয় সংকট শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো গতকাল জনসম্মুখে আসেন লাম। তিনি একপ্রকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ক্যাম্পাসে অবস্থান নেওয়া বিক্ষোভকারীদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমেই এ পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান হতে পারে। এ সময় তিনি বিক্ষোভকারীদের 'দাঙ্গাবাজ' উল্লেখ করে তাদের 'অস্ত্র' সমর্পণ করতে বলেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক আত্মসমর্পণকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে না। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে 'দাঙ্গাবাজির' অভিযোগ আনা হবে বলে জানিয়েছেন লাম। লামের এ হুমকি-ধমকিতেও নিজেদের অবস্থানে অনড় ক্যাম্পাসে থাকা বিক্ষোভকারীরা। তারা সেখান থেকে বের হবেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাথিউ নামে এক শিক্ষার্থী জানান, আত্মসমর্পণ করলে তাদের জেলে ভরা হবে। আপাতদৃষ্টিতে তাদের সামনে দুটি উপায় রাখা হলেও জেলে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।

তবে ক্যাম্পাসে অবরুদ্ধ বিক্ষোভকারীদের অভিভাবকদের যেন উদ্বিগ্নতার শেষ নেই। দুই রাত ধরে ক্যাম্পাসের পাশে একটি পার্কে অবস্থান করা পঞ্চাশোর্ধ্ব এক মা বলেন, 'পুলিশ যখন ভেতরে ঢুকে অ্যাকশন শুরু করবে, তখন পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ। তখন আরেকটি তিয়েনআনমেন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।' ১৯৮৯ সালে বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে নৃশংসতার মাধ্যমে ছাত্র বিক্ষোভ দমন করেছিল চীন। ১৬ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর মা জানান, তার মেয়ে ক্যাম্পাসে আটকে আছে। সে সেখান থেকে বের হতে চায়। কিন্তু পুলিশকে কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছে না তার মেয়ে।

এমন পরিস্থিতিতে চীনের কর্তৃপক্ষ তাদের কঠোর অবস্থানের জানান দিতে ছাড়ছে না। গতকাল দেশটির কর্তৃপক্ষ বলেছে, হংকংয়ের সাংবিধানিক বিষয়বস্তুর বৈধতা দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র চীনেরই রয়েছে। গত সোমবার হংকংয়ের উচ্চ আদালত বিক্ষোভকারীদের মুখোশ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বেইজিংয়ের এ শক্ত অবস্থান।