ইরাকে এবার কী

বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার পদত্যাগ

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

টানা দুই মাস আন্দোলনের পর জনতার বিক্ষোভের মুখে নতিস্বীকার করে পদ ছেড়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদি। রোববার দেশটির পার্লামেন্টে তার ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে। এর আগে শনিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে মাহদির পদত্যাগের ঘোষণাকে অনুমোদন দেওয়া হয়। এ সময় সরকারের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে নিজেদের পদ ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া মাহদিকে সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফের পদও ছাড়তে বলা হয়। খবর আলজাজিরার।

চলমান আন্দোলনে সারাদেশে চার শতাধিক ব্যক্তি নিহত ও হাজারো মানুষ আহত হওয়ার পর শুক্রবার মাহদি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তার মন্ত্রিসভার সদস্যরাও পদত্যাগ করেন। তবে দেশটিতে এখনও অসন্তোষ বিরাজ করছে। সরকারের পতন হলেও এবার ইরাকে কী হতে যাচ্ছে, তা পরিস্কার নয়।

আগামীর সরকার কেমন হবে, তা নিশ্চিত নয়। শুধু এতটুকু জানা গেছে, চলমান সরকার এখন থেকে ৩০ দিন অথবা প্রধানমন্ত্রী পদে নতুন প্রার্থী না পাওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে কাজ করবে। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থেকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে নতুন কারও নাম প্রস্তাব না করা পর্যন্ত এভাবেই চলতে থাকবে।

আইন বিশেষজ্ঞ তারেক হারব বলেন, সাংবিধানিকভাবে এই পদত্যাগ শুধু মাহদির নয়, তার মন্ত্রিসভারও পদত্যাগ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এখন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে পরিচিতি হবে। তিনি বলেন, একটা দল কিংবা জোট ১৫ দিনের মধ্যে একজনকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেবে। এরপর প্রেসিডেন্ট তাকে ৩০ দিনের মধ্যে সরকার গঠনের কথা বলবেন। এরপর নতুন মন্ত্রিসভাকে পার্লামেন্টে ভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়ে আসতে হবে। সংসদে তাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে।

ইরাকের পার্লামেন্টে এখন শাইরুনই সবচেয়ে বড় দল। তবে রোববার তারা বলেছে, নিজেরা কোনো প্রার্থী দেবে না। আগামীতে সরকারে কারা যাবে, তা ইরাকের জনগণই ঠিক করবে। ইরাকের লিগ্যাল ডেভেলপমেন্টের আইন বিশেষজ্ঞ আহমেদ আল-ইনাজি বলেন, মাহদির নেতৃত্বে আপাতত একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশ চালাবে। নতুন সরকার গঠিত হলে তাদের দায়িত্ব শেষ। তবে সেই নতুন সরকার দেশটির তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভকারীদের দাবিগুলো পূরণ করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে। এদিকে, মাহদির পদত্যাগে উল্লসিত হলেও তাহরির স্কয়ারে আন্দোলনকারীরা বলছে, তাদের কাজ এখনও শেষ হয়নি।