লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি

যুক্তরাজ্যে নির্বাচনের বাকি তিন দিন

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

শেষ সময়ের নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলো। ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের লড়াইটা যে হাড্ডাহাড্ডি হতে যাচ্ছে, তার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন জনমত জরিপকারী প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যে। প্রার্থীরাও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এ নির্বাচনকে 'ঐতিহাসিক' বলে উল্লেখ করেছেন। তার দলের মূল ইস্যু ব্রেক্সিট। প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন এ নির্বাচনকে দেখছেন 'দেশ পরিবর্তনের উপলক্ষ হিসেবে'। এই দলটি নীতিগতভাবে ব্রেক্সিটের বিপক্ষে। স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির (এসএনপি) নেত্রী নিকোলা স্টারজনের কাছে নির্বাচন হয়ে দাঁড়িয়েছে স্কটল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের উপায়। লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা (লিব ডেম) ব্রেক্সিটের ঘোর বিরোধী। বিষয়টিকে সামনে রেখেই চলছে তাদের প্রচার। আর মিস্টার ব্রেক্সিট হিসেবে পরিচিত নাইজেল ফারাজের ব্রেক্সিট পার্টির মূল এজেন্ডাই হলো যে কোনো উপায়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়া।

শনিবার চারটি জরিপকারী প্রতিষ্ঠান যে জনমত জরিপ তুলে ধরেছে তাতে দেখা গেছে, লেবার ও কনজারভেটিভদের ব্যবধান খুব কম। এই দুই দলের মধ্যে ব্যবধান আট থেকে ১৫ পয়েন্টের। এই স্বল্প পরিসরের ব্যবধান জনসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার কথাই বলছে। ফলে ফের হতে পারে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট। তাতে জনসনের আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পালনও কঠিন হয়ে যাবে। জরিপকারী প্রতিষ্ঠান সাভান্তা কমরেস জানিয়েছে, লেবারদের সঙ্গে কনজারভেটিভদের ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে আট পয়েন্টে। অথচ গত বুধবার দুই দলের ব্যবধান ছিল ১০ পয়েন্টের।

জনমত জরিপ যাই বলুক না কেন, তাতে কান দেওয়ার সময় খুব একটা নেই দলগুলোর। গতকাল রোববার দলগুলোর ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি অংশ প্রচারের অগ্রভাগে ছিল। কনজারভেটিভরা এদিন অভিবাসী ইস্যুকে সামনে এনে প্রচারণা চালিয়েছেন। দলটি সংখ্যার চেয়ে কর্মদক্ষতার ওপর ভিত্তি করে অভিবাসীদের ব্রিটেনে আসতে দেওয়ার পক্ষে। এ জন্য দলটি পয়েন্টভিত্তিক 'অস্ট্রেলিয়া মডেলে'র অভিবাসন পদ্ধতির বিষয়টি প্রচার করেছে। কনজারভেটিভ নেত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল বলেছেন, ক্ষমতায় এলে ২০২১ সাল থেকে এ পদ্ধতি কার্যকর করা হবে।

লেবার পার্টি সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টি সামনে এনেছে। বয়স্ক নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে ব্যক্তিগত সেবা পাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে তাদের প্রতিশ্রুতিতে। শ্রমজীবী মানুষদের সামাজিক সুরক্ষার কথাও বলেছেন লেবার নেতা জেরেমি করবিন। তিনি বলেছেন, লেবার পার্টি জিতলে নার্সরা জিতবেন, পেনশনভুক্ত ব্যক্তিরা জিতবেন, শিক্ষার্থীরা জিতবেন, শ্রমিকরা জিতবেন... প্রকৃত পরিবর্তনের এখনই সময়।' অন্যদিকে লিব ডেম প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, বিনিয়োগের মাধ্যমে আঞ্চলিক ব্যবধান কমানোর। তাদের দাবি, লেবার বা কনজারভেটিভ পার্টির কেউই তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারবে না।

এদিকে, উগ্র ডানপন্থি নাইজেল ফারাজের ব্রেক্সিট পার্টি যে কোনো উপায়ে ইইউ ছাড়তে চায়। তার নির্বাচনী প্রচারও চলছে সেই পথেই। সূত্র :বিবিসি ও রয়টার্স।