হংকংয়ের রাজপথে মানুষ আর মানুষ

বিক্ষোভের ছয় মাস পূর্তিতে নজিরবিহীন সমাবেশ ক্যারি লামকে দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

হংকংয়ের রাজপথে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। যেদিকে চোখ যায় মানুষ আর মানুষ। আঁকাবাঁকা পথে মানুষের স্রোত যেন সাপের এগিয়ে চলার মতো দৃশ্য। চীনের স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলে গণতন্ত্রপন্থিদের এটি নজিরবিহীন সমাবেশ। সোমবার বিক্ষোভের ছয় মাসপূর্তি উপলক্ষে গতকাল রোববার এ সমাবেশ আয়োজন করা হয়। কয়েক লাখ মানুষ এতে অংশ নেয়। প্রত্যর্পণ বিল বাতিলের দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। এতদিন বিক্ষোভের অনুমতি না দিলেও গতকালের জন্য সমাবেশের অনুমতি দেয় হংকংয়ের বেইজিংপন্থি পুলিশ। এটি বিরল ঘটনা। সমাবেশ থেকে আন্দোলনকারীরা হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লামকে তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তাকে হুঁশিয়ারি করেছে, রাজনৈতিক সংকট সমাধানের এটিই 'শেষ সুযোগ'। খবর এএফপির।

অধিকতর স্বায়ত্তশাসন ও গণতন্ত্রের দাবিতে হাজারো মানুষের বিক্ষোভের সময় ক্যারি লাম সরকার বারবার বলেছে, বিক্ষোভকারীদের চেয়ে চীনের প্রতি সমর্থকদের 'নীরব সংখ্যা' অনেক বড়। তবে সম্প্রতি জেলা পরিষদ নির্বাচনের ফলে তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। অধিকাংশ পরিষদে জয় পেয়েছেন বিক্ষোভের সমর্থকরা। গতকাল বিক্ষোভ থেকে অনেকে বলেন, নির্বাচনে ভরাডুবির পরও ক্যারি লাম ও বেইজিং হংকংবাসীর ন্যায্য দাবির প্রতি সদয় নয়। ৫০ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী বলেন, 'শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা, সুষ্ঠু নির্বাচন আমরা যেভাবেই আমাদের মতামত প্রকাশ করি না, সরকার তা শুনছে না। তারা শুধু চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নির্দেশ অনুসরণ করছে।' মুখোশ পরিহিত এক তরুণ বিক্ষোভকারী বলেন, 'সরকার যদি সিস্টেমেটিক অবিচার বন্ধ না করে, তাহলে গত ছয় মাসে সমাজে তৈরি হওয়া আলোড়ন সহজে ফিকে হয়ে যাবে না।'

১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে চীনের অধীনে আসা এশিয়া ও বিশ্বের অন্যতম ব্যবসা কেন্দ্র হংকংয়ে প্রায়ই বিক্ষোভ দেখা দেয়। বছরের পর বছর অসন্তোষ প্রকাশ করে রাজপথে বিক্ষোভ হওয়া মানে কর্তৃত্ববাদী চীনা সরকার হংকংবাসীর স্বাধীনতাকে খর্ব করছে। তবে এবারের স্থানীয় নির্বাচনের পর প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা বদলেছে। পাল্টেছে বিক্ষোভের ধরনও। গত ছয় মাসে বিক্ষোভের সময় যে সহিংসতা দেখা দেয়, নির্বাচনের পর থেকে তা ছিল না। এ অবস্থায় সমাবেশের ডাক দিলে পুলিশ তাদের অনুমতি দেয়। তবে সহিংসতার বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিক্ষোভের সময় পুলিশি হস্তক্ষেপের স্বাধীন তদন্ত, গ্রেপ্তারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি ও সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক নির্বাচন। ছয় মাসে গ্রেপ্তার হয়েছে ছয় হাজার বিক্ষোভকারী এবং আহত হয়েছে শত শত। এসব দাবি আদায়ে সরকারকে শেষ সুযোগ দিয়ে রোববারের সমাবেশের আয়োজন করে সিভিল হিউম্যান রাইটস ফ্রন্ট-সিএইচআরএফ। বিক্ষোভকারীদের এ সংগঠনের নেতা জিমি শাম। গতকাল সমাবেশ থেকে তিনি বলেন, 'ক্যারি লামের জন্য জনতার দেওয়া এটিই শেষ সুযোগ।'