ভঙ্গুর অর্থনীতির কারণে রণে ভঙ্গ ইরানের

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২০

সমকাল ডেস্ক

কঠিন অর্থনৈতিক সংকটের আবর্তে ইরান। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি এবং চাকরির অভাব এ সংকটকে ঘনীভূত করেছে আরও। দেশটির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। শাসকদের বিরুদ্ধে তাই সাধারণ ইরানিদের ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। ইরানের এ সংকটের কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বলছে, ইরানের অর্থনীতির বার্ষিক সংকোচনের হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫ শতাংশে। নিষেধাজ্ঞা ইরানকে মচকে দিয়েছে বটে কিন্তু ভাঙতে পারেনি। ভঙ্গুর অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় আকারের যুদ্ধে জড়াতে ইরানকে উৎসাহিত করেনি। যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে ইরানি নেতাদের জন্য তা সামাল দেওয়া বিপজ্জনক হয়ে পড়ত বটে। চাকরি আর রুটির নিশ্চয়তা চেয়ে সম্প্রতি ইরানের কয়েকটি বিক্ষোভ দেশটির শাসকদের বেশ ভালোভাবেই সতর্ক করেছে। তবুও জেনারেল কাসেম সোলাইমানির হত্যার বদলা তেহরান নিয়েছে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ঘাঁটিতে নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে। কিন্তু ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় সেসব চাপা পড়ে গেছে। ঘরে-বাইরের বিক্ষোভে ভীষণ বিপদে আছে তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের তেল রপ্তানি তলানিতে ঠেকেছে। দেশটির বর্তমান মুদ্রাস্ম্ফীতি ৪০ শতাংশের কাছাকাছি। সাধারণ মানুষের খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই রোজগারের সবটা শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ইরানের প্রতি চারজন শিক্ষিত তরুণের একজন বেকার। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলা চালানোর পরপরই ইরান বলেছে, তারা যুদ্ধ চায় না। ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যুদ্ধে জড়ালে আদতে সাধারণ ইরানিদের ক্ষতিই বেশি হবে- দেশটির নেতারা তা বুঝেছেন।

ব্যাংকিং খাতের ৭০ শতাংশ সম্পদ ইরানের সরকারের হাতে। যুদ্ধ এই খাতের জন্য সংকট তৈরি করবে। ইরানের কোম্পানিগুলোকে ধ্বংসের মুখে ফেলে দেবে। বিতরণ করা ঋণের প্রায় অর্ধেক বকেয়া পড়ে আছে। ব্যাংক থেকে সরকারও ঋণ করেছে প্রচুর। সেগুলো আদায় করা অসম্ভব করে তুলবে যুদ্ধ। ইরানের বেশিরভাগ কোম্পানি বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধ বাধলে নতুন করে দেশটির মুদ্রার অবনমন শুরু হবে। চাকরির সংকট দেখা দেবে। সর্বোপরি ভেঙে পড়বে ইরানের অর্থনীতি। এসব বিবেচনায় নিয়ে দেশটির রক্ষণশীল নেতারাও যুদ্ধের পথ থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। তবে ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে সাধারণ জনগণের নজর ফেরাতে তারা যুদ্ধাবস্থা জিইয়ে রাখবেন।

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কণ্ঠেও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে না জড়ানোর সতর্কবার্তা শোনা গেছে একাধিকবার। এর কারণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানিদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ। বিশ্বের ২০ শতাংশের বেশি তেল রপ্তানি হয় এই পথে। এর বেশিরভাগ অংশ যায় ইউরোপে। যুদ্ধ বাধলে ইরান সর্বপ্রথম এই প্রণালি আটকে দেবে। এতে হুমকির মুখে পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতি। যুক্তরাষ্ট্রও হুমকির বাইরে থাকবে না। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় লড়বেন। এমন সময়ে তিনিও চান না দেশে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হোক।