অবৈধ ইহুদি বসতি নির্মাণে জড়িত ১১২ প্রতিষ্ঠান

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০      

সমকাল ডেস্ক

ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ ও নির্মাণের সঙ্গে জড়িত কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি তালিকা দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এ প্রতিবেদনে ১১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে। এর মধ্যে এয়ারবিএনবি, বুকিং ডটকম, এক্সপেডিয়া গ্রুপ ও মটোরোলা সলিউশনের মতো বহুজাতিক কোম্পানিও রয়েছে। খবর বিবিসির।

বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের দখল করা ভূমিতে অবৈধ বসতি নির্মাণে যোগসাজশ আছে। যৌক্তিক ভিত্তি থেকেই জাতিসংঘ এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর)। বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনকে 'আন্তর্জাতিক আইনের বিজয়' বলে আখ্যায়িত করেছে ফিলিস্তিনিরা। তবে ইসরায়েলিরা এ প্রতিবেদনকে 'লজ্জাজনক' বলে আখ্যা দিয়েছে।

১৯৬৭ সালে ইসরায়েল পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর থেকে সেখানে এখন পর্যন্ত গড়ে ওঠা ১৪০টির মতো বসতিতে প্রায় ছয় লাখ ইহুদি বসবাস করছে। এ বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইনে 'অবৈধ' হিসেবে বিবেচিত। তবে ইসরায়েল সবসময় তা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে।

ইহুদি বসতি ও স্থাপনা পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমকে নিয়ে তাদের আকাঙ্ক্ষিত স্বাধীন রাষ্ট্রকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে জানিয়ে ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরেই বসতিগুলোর উচ্ছেদ চাচ্ছে।

২০১৬ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল বসতিগুলোতে নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি তালিকা বানাতে ওএইচসিএইচআরকে দায়িত্ব দেয়। যেসব কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে কোম্পানিগুলোর তালিকা করতে বলা হয়েছিল, তার মধ্যে আছে- পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কাঁটাতার ও বসতির সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় উপকরণ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ, সেখানে থাকা বাড়িঘর ও স্থাপনা, কৃষি জমি, গ্রিন হাউস, জলপাইয়ের বাগান ও শস্য ধ্বংসে প্রয়োজনীয় উপকরণ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ, বসতিগুলো টিকিয়ে রাখতে ও এর দেখভালের জন্য যাতায়াতসহ বিভিন্ন সেবা ও পরিষেবা নিশ্চিত করা, বসতিগুলোর আধুনিকায়ন, ব্যবস্থাপনা ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে- এমন ব্যাংকিং ও বিভিন্ন আর্থিক কর্মকা যেমন- গৃহনির্মাণ ও ব্যবসার জন্য ঋণ দেওয়া।

তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৯৪টিই ইসরায়েলভিত্তিক। বাকিগুলো যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, লুক্সেমবার্গ, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের। এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বসতিগুলো আন্তর্জাতিকভাবে অবৈধ হিসেবেই বিবেচিত হয়ে এলেও (ওএইচসিএইচআরের) প্রতিবেদনে স্থান পাওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কিংবা তাদের কর্মকাণ্ডকে আইনিভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে না।