সৌদি আরবে প্রাপ্তবয়স্ক নারীরা এখন আলাদা বাড়িতে বসবাসের মাধ্যমে স্বাধীন জীবনযাপন করতে পারবেন। সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের এ ইচ্ছা এখন আর অপরাধ বলে গণ্য হবে না। সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার এ-সংক্রান্ত এক মামলার রায়ে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। খবর এএফপির।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানকার এক নারী স্বাধীনতা ভোগ করার জন্য আলাদা বাড়িতে থাকছিলেন। এ ঘটনায় এক সরকারি কৌঁসুলি তার পরিবারের হয়ে মামলা করেন। ওই মামলার শুনানির পর তা খারিজ করে দেন আদালত। ওই নারীর আইনজীবী আব্দুল রহমান আল-লাহিম এ কথা জানিয়েছেন। সৌদি গেজেটকে লাহিম বলেন, বারবার নিজের বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া এবং বাবার অনুমতি ছাড়া রিয়াদে ভ্রমণ করায় ওই তরুণীর শাস্তির আবেদন জানান সরকারি কৌঁসুলি। তবে আদালত বলেন, এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়।

আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়, অন্য একটি বাড়িতে স্বাধীনতা ভোগ শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়। এটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। মামলা খারিজ করে দিয়ে আদালত বলেন, বিবাদী একজন প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ নারী। তিনি কোথায় থাকবেন সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে তার।

রক্ষণশীল দেশ সৌদি আরবে নিজের বাড়িতে নির্যাতন ও মনপীড়নের অভিযোগ তুলে প্রতিবছর শত শত নারী পশ্চিমা দেশগুলোয় পালিয়ে যাচ্ছে। তাদের অনেকের পছন্দের জায়গাগুলোর একটি যুক্তরাজ্য। সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী, সব বিষয়েই নারীদের পুরুষের ওপর নির্ভর করতে হয়। যে কোনো কাজে পুরুষ অভিভাবকের সম্মতি বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে বিয়ে, পাসপোর্ট বা বিদেশ ভ্রমণ করতে হলে একজন পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি লাগে। তিনি বাবা, ভাই বা কখনও সন্তান হতে পারেন। দেশটিতে রেস্টুরেন্টে এখনও নারী-পুরুষ একসঙ্গে বসে খাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে গত কয়েক বছরে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে সৌদি আরবে। যেমন নারীদের গাড়ি চালানো, ভোট দেওয়া ও স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মতো সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হয় না।

মন্তব্য করুন