করোনা সারলেও থাকছে হৃদরোগের ভয়

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২০

সমকাল ডেস্ক

করোনা মহামারিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে বড় বিপর্যয় বলে আখ্যায়িত করেছে। এটি মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে মোড়ল রাষ্ট্রগুলোও। এরই মধ্যে আরও শঙ্কার কথা জানালেন জার্মান চিকিৎসকরা। তারা জানাচ্ছেন, এ ভাইরাস থেকে ছড়ানো কভিড-১৯ রোগ সেরে গেলেও হৃদরোগের ভয় থাকছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি সুস্থ হওয়া তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি রোগীর ক্ষেত্রে এমআরআইয়ে হৃদযন্ত্রের পেশির সমস্যা ধরা পড়েছে।

সম্প্রতি একটি জার্নালে প্রকাশিত পর্যবেক্ষণে ফ্রাঙ্কফুর্টের ইউনিভার্সিটি হসপিটালের চিকিৎসক ভ্যালেন্টিনা পুন্টমান জানিয়েছেন, করোনা থেকে সেরে ওঠা (৪৫ থেকে ৫৩ বছর বয়সী) ১০০ জনের মধ্যে ৭৮ জনের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে হৃদযন্ত্রের পেশি কিংবা পেশির আবরণ ফুলে গেছে। শতকরা ৩৬ জনের দেখা দিয়েছে শ্বাসকষ্ট ও ক্লান্তির সমস্যা, ৭১ জনের ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্রের পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়নি অথচ একই ধরনের সমস্যায় ভুগছেন- এমন মানুষের এবং সদ্য করোনা থেকে সেরে ওঠা রোগীর হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতার তুলনামূলক বিচারও করেছেন চিকিৎসকরা। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে; করোনার প্রভাবে তাদের হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ায় তা আর আগের মতো রক্ত পাম্প করতে পারছে না। তাই হার্ট ফেলিওরের আশঙ্কাও বেড়েছে। ভ্যালেন্টিনার আশঙ্কা, হৃদযন্ত্রের এ ধরনের অনিয়মিত ক্রিয়া ভবিষ্যতে স্থায়ী সমস্যা হয়ে দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, 'অন্যান্য ভাইরাসের আক্রমণের ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্রে যে ধরনের প্রভাব দেখা গেছে, তা থেকেই এমন আশঙ্কার কথা উঠছে।' খবর আনন্দবাজারের।

অন্য একটি জার্নালে গবেষকদের দাবি, সার্স-কোভ-২ ভাইরাসে যে ধরনের জিনগত পরিবর্তন সম্প্রতি দেখা গেছে, তা একই সঙ্গে চিন্তার ও স্বস্তির। চিন্তার কারণ এই যে, এই পরিবর্তনের (ডি৬১৪জি) ফলে ভাইরাসের বহিরাঙ্গে প্রোটিনের কাঁটার (স্পাইক প্রোটিন) সংখ্যা বেড়েছে। ফলে তার আক্রমণের ক্ষমতাও বেড়েছে। এই কাঁটার সাহায্যেই কোষকে আক্রমণ করে করোনাভাইরাস। কিন্তু স্পাইক প্রোটিন মানব শরীরের কোষের মধ্যে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে তার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও সজাগ করে। তখন অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। শরীরে তৈরি অ্যান্টিবডি বা বাইরে থেকে প্রবেশ করানো প্রতিষেধক কিন্তু স্পাইক প্রোটিনকেই নিশানা করে। ফলে কাঁটার সংখ্যা বৃদ্ধি হওয়ার অর্থ আখেরে ভাইরাসেরই আরও বেশি করে অ্যান্টিবডির নিশানা হয়ে পড়া। তবে মনে রাখতে হবে, জার্মানিতে করোনাভাইরাসের ইতালীয় স্ট্রেনটিই বেশি সক্রিয়, যা ভারতে কার্যত

দেখাই যায়নি।