দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত টহলদারির পথেই লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় (এলএসি) নজরদারি চালিয়ে যাবে ভারতীয় সেনা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এ কথা জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, পৃথিবীর কোনো শক্তি ভারতীয় সেনার টহলদারিতে বাধা দিতে পারবে না। এদিকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর কংগ্রেস সাংসদ কে সি বেনুগোপালকে লেখা চিঠিতে অভিযুক্ত চীনা সংস্থার বিরুদ্ধে সরকারি পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন। চীনা নজরদারির তদন্ত রিপোর্ট ৩০ দিনেই দেয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

চীনের চুক্তিভঙ্গের কারণেই যে লাদাখ সীমান্তে সমস্যার সূত্রপাত, সে কথা এদিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন রাজনাথ। তিনি বলেন, এলএসির পুরোনো পোস্টগুলোতে ভারতীয় সেনার টহলদারির পথে বাধা দিয়েছে চীনা ফৌজ। সেটাই সংঘাতের কারণ। সেই সঙ্গে তার আশ্বাস, লাদাখে এলএসি বরাবর টহলদারির পদ্ধতিতে কোনো বদল হবে না।

রাজ্যসভায় এদিন কংগ্রেস সাংসদ তথা সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি জানতে চান, চীনা বাহিনীর এলএসি লঙ্ঘনের পর পুরোনো পথে ভারতীয় সেনার টহলদারি চালানো সম্ভব কিনা। জবাবে রাজনাথ সিং বলেন, পুরোনো পথে ভারতীয় সেনার টহল কেউ রুখতে পারবে না।

এদিকে ভারতের রাজনীতি, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, এমনকি সংবাদমাধ্যম ও বাণিজ্যক্ষেত্রের মোট ১০ হাজার প্রভাবশালী ব্যক্তির ওপর গোপনে নজরদারি চালাচ্ছে একটি চীনা তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা। লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারত ও চীনা সেনার টানাপোড়েনের মধ্যেই চলতি সপ্তাহে এই খবর প্রকাশ করে সর্বভারতীয় একটি দৈনিক। সেই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি তোলে কংগ্রেসসহ বিরোধীরা। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, ৩০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে তদন্তের কাজ শেষ করা হবে। মঙ্গলবার এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক বেনুগোপালকে লেখা চিঠিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, একটি চীনা সংস্থা কয়েক হাজার ভারতীয়ের অনলাইন কার্যকলাপের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন