ধনী দেশগুলোতে বাস করে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১৩ শতাংশ। অথচ সে দেশগুলো করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য টিকার অর্ধেকের বেশি ডোজ কিনে ফেলেছে ইতোমধ্যে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বুধবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দাতব্য সংস্থা অক্সফাম। খবর এএফপির।

অক্সফাম আমেরিকার রবার্ট সিলভারম্যান বলেছেন, 'আপনি কোন দেশে বাস করেন অথবা সে দেশ কতটা ধনী, তা কখনোই জীবন রক্ষাকারী টিকা পাওয়ার মানদণ্ড হতে পারে না।' এ মুহূর্তে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির তৈরি টিকা তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালে রয়েছে। এ বিষয়টি উল্লেখ করে রবার্ট বলেছেন, 'নিরাপদ টিকা পাওয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সবার জন্য স্বল্পমূল্যে টিকা সরবরাহ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।'

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, গ্যামেলিয়া-স্পুটনিক, মডার্না, ফাইজার এবং সিনোভ্যাক- এই পাঁচটি কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের তৈরি টিকা তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালে প্রবেশ করেছে। অক্সফাম জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই পাঁচ টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ৫৯০ কোটি ডোজ টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে, যা বিশ্বের প্রায় সাতশ' কোটি মানুষের টিকার চাহিদা মেটাতে সক্ষম। তবে, বিশ্বের প্রায় সব মানুষকে বঞ্চিত করে সম্ভাব্য এসব টিকার বেশিরভাগই আগাম কিনে নিয়েছে কয়েকটি ধনী দেশ।

৫৩০ কোটি সম্ভাব্য টিকা এরই মধ্যে আগাম বিক্রি অথবা বিক্রির চুক্তি সম্পন্ন করেছে ওই পাঁচ প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ২৭০ কোটি ডোজ সম্ভাব্য টিকা কিনে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ, অস্ট্রেলিয়া, হংকং ও ম্যাকাও, জাপান, সুইজারল্যান্ড এবং ইসরায়েল। বাকি ২৬০ কোটি ডোজ সম্ভাব্য টিকা ভারত, বাংলাদেশ, চীন, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকোসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো আগাম কিনে নিয়েছে অথবা কেনার চুক্তি করেছে।

করোনার টিকা তৈরি দ্রুত সম্পন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানি মডার্নাকে প্রায় আড়াইশ' কোটি ডলার অনুদান দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এখন বলছে, 'মুনাফা করতে ধনী দেশগুলোর কাছে টিকা বিক্রির বিকল্প নেই।' এর বিপরীতে অক্সফামসহ অন্যান্য দাতব্য সংস্থা 'জনগণের জন্য টিকা'র কথা বলে আসছে। প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিনামূল্যে সেসব টিকা সরবরাহের পক্ষে এই দাতব্য সংস্থাগুলো। এজন্য ওষুধ কোম্পানিগুলোকে টিকার ফর্মুলা উন্মুক্ত করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

মন্তব্য করুন