যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

করোনার টিকা নিয়ে ট্রাম্পের আশায় গুড়েবালি

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২০

সমকাল ডেস্ক

নভেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে করোনার অন্তত দুটি টিকা বাজারে আসার ইঙ্গিত মিলেছে। তার মধ্যে একটি ভারতে। অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রে। এদিকে চীনের আরেক টিকা মানবশরীরে প্রয়োগে ভালো ফল পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা ফাইজার জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অনুমোদন মিললে জার্মান সংস্থা বায়োএনটেকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি তাদের টিকা এ বছরের নভেম্বরেই বাজারে আসতে পারে। এদিকে নভেম্বরেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘোষণা দিয়েছিলেন, নির্বাচনের আগেই করোনার টিকা আসবে। তবে ফাইজারের তথ্যানুযায়ী, নির্বাচনের আগে এই টিকা বাজারে আসছে না। ফলে ট্রাম্পের সেই আশায় গুড়েবালি। খবর পলিটিকো, রয়টার্স ও আনন্দবাজারের।

ফাইজার জানিয়েছে, তাদের তৈরি টিকা কতটা নিরাপদ এখনও তার ফলাফল জানার অপেক্ষায় রয়েছেন গবেষকরা। সেই টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালানো হয় ৪৪ হাজার মানুষের ওপর। ফাইজারের প্রধান নির্বাহী অ্যালবার্ট বৌরলা গত শুক্রবার বলেন, আমরা যে ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছি, নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে তা যদি ভালো হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই তার জরুরি ব্যবহারের আবেদন জানানো হবে। এদিকে সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলের সবুজ সংকেত পেলে আগামী মার্চেই দেশে করোনার টিকা এসে যাবে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত টিকা বানাচ্ছে সেরাম। এ ছাড়া রাশিয়ার তৈরি টিকা 'স্পুটনিক ৫'-এর যে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ভারতে স্থগিত রাখা হয়েছিল, কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলের বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল সেই ট্রায়াল ফের শুরুর অনুমতি দিয়েছে।

সেরাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ডা. সুরেশ যাদব জানিয়েছেন, আরও একটি সংস্থা ভারত বায়োটেকের বানানো টিকাও (কোভ্যাক্সিন) এখন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এই মুহূর্তে বিশ্বে মোট ১৫০টি করোনার টিকা তৈরি করা হচ্ছে। তার মধ্যে অন্তত ১০টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের শেষপর্যায়ে রয়েছে। সবচেয়ে তাড়াতাড়ি আসতে পারে ফাইজার, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, জনসন অ্যান্ড জনসন, মডার্না এবং চীনা সংস্থা সাইনোভ্যাকের তৈরি টিকা।