যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি

বাইডেনের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করছেন ট্রাম্প

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে একপক্ষীয় নীতি ওয়াশিংটনের প্রভাবকে ক্ষুণ্ণ করবে

প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২০

সমকাল ডেস্ক

বাইডেনের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করছেন ট্রাম্প

ছবি: ফাইল

বিদায় বেলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নানাবিধ বিক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিকে গভীর থেকে গভীরতর সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সম্ভাব্য প্রশাসনের সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয় না করেই এসব করছে ট্রাম্প প্রশাসন। অনেক ক্ষেত্রে বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত বেশ কিছু এজেন্ডা ট্রাম্প প্রশাসন আগে থেকেই আটকে দিতে প্রাণপণ চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন ঘটনা নজিরবিহীন।

আফগানিস্তান ও ইরাক :ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির বেশ কয়েকজন সিনেটর এবং সামরিক জোট ন্যাটো ইরাক ও আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার এই সেনা প্রত্যাহারে একমত না হওয়ায় ট্রাম্প তাকে বরখাস্ত করেন। ক্রিস্টোফার মিলার ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তিনি ঘোষণা দেন, আগামী জানুয়ারিতে বাইডেনের ক্ষমতা গ্রহণের আগেই এ দুই দেশ থেকে সব মিলিয়ে সাড়ে সাত হাজার সেনা প্রত্যাহার করা হবে।

ইরাক ও আফগানিস্তানে আড়াই হাজার করে সেনা রেখে দেবে যুক্তরাষ্ট্র। আফগানিস্তানে তালেবানের সঙ্গে চুক্তি করে বেরিয়ে আসতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন। বাইডেনের জন্য সে চুক্তি বাতিল করা খুবই কঠিন। ফলে ন্যাটো ও মিত্র দেশগুলোর বিরাগভাজন হতে পারেন বাইডেন।

ইরান :পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নিয়ে ইরানের ওপর দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত সপ্তাহে ইরানে হামলাও চালাতে চেয়েছিলেন তিনি। পরে উপদেষ্টারা বিস্তৃত আকারে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার কথা বলে প্রেসিডেন্টকে নিবৃত করেন। তবে ইরাকে ইরানের মিত্রদের ওপর হামলা চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ট্রাম্প।

ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির জন্য বরাবরই ট্রাম্পকে দায়ী করে আসছেন বাইডেন। তিনি ফের ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তিতে ফিরতে চান। কিন্তু তেহরানের বিরুদ্ধে রিপাবলিকানদের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা তুলতে গিয়ে বিভক্ত কংগ্রেসে বাধার মুখে পড়তে হবে বাইডেনকে। ইরানের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন এবং ইয়েমেন যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে গুটিয়ে আনার চাপ রয়েছে বাইডেনের ওপর। কিন্তু আরব আমিরাতের সঙ্গে যুদ্ধবিমান বিক্রির চুক্তি এবং ইয়েমেনে ইরান-ঘনিষ্ঠ হুতি বিদ্রোহীদের সন্ত্রাসী সংগঠন বিবেচনা করে পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছেন ট্রাম্প।

ইসরায়েল :গত বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরে অবৈধ ইহুদি বসতি পরিদর্শন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনিরা বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে আরেকটি অবৈধ নজির সৃষ্টি হলো। এসব অবৈধ বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যে 'মেড ইন ইসরায়েল' লেবেল জুড়ে দেওয়ার কথাও বলেছেন পম্পেও। ট্রাম্প প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ ইসরায়েল সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের চেয়ে বেশি আগ্রাসী বলে মনে করেন বিশ্নেষকরা।

রাখঢাক রেখেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে অবস্থান নেয় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ইসরায়েলের পক্ষে ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ অবস্থান বাইডেনকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে একপক্ষীয় নীতি ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে আরও ক্ষুণ্ণ করবে। কারণ, পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি বসতিকে অবৈধ আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্র দেশ। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নজিরবিহীন ইসরায়েল তোষণ বাইডেন প্রশাসনকে ফিলিস্তিনিদের আস্থার পরীক্ষায় ফেলবে। সূত্র :অ্যাক্সিওস।