সৌদি আরবের প্রখ্যাত নারী অধিকারকর্মী লুজাইন আল হাথলুলকে পাঁচ বছর আট মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। সৌদির রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন চাওয়া এবং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষতিসাধনের অভিযোগে গত সোমবার এ সাজা দেওয়া হয়। রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ঘোষণা দিয়েছে তার পরিবার। এই রায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তার দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও ফ্রান্স। খবর রয়টার্স, এএফপি ও আলজাজিরার।

মানবাধিকার কর্মী হাথলুলের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণার ঘটনায় সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আগে থেকেই রিয়াদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র সমালোচনা করে আসছেন।

২০১৮ সালের ১৫ মে আরও কয়েকজন নারী অধিকারকর্মীর সঙ্গে গ্রেপ্তার হন ৩১ বছর বয়সী হাথলুল। তখন থেকেই কারাগারে আছেন তিনি। এসব নারীকে দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়াই। সোমবার রায় ঘোষণার সময় আদালত হাথলুলের এরই মধ্যে কারাগারে থাকার সময়গুলো সাজা থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলেছেন।

লুজাইনের ভাই ওয়ালিদ আল হাথলুল এএফপিকে বলেছেন, 'রায় ঘোষণার সময় লুজাইন কাঁদছিলেন। কারণ তাকে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব। '

জেনেভাভিত্তিক জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় এক টুইটবার্তায় হাথলুলের বিরুদ্ধে সাজার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র ক্যাল ব্রাউন ও নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আসন্ন প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভ্যান টুইটবার্তায় তার মুক্তি দাবি করেছেন। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হাথলুলের দ্রুত মুক্তির দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

মন্তব্য করুন