যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বমঞ্চে ফেরাতে চান বাইডেন

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২১

সমকাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বমঞ্চে ফেরাতে চান বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন ও পরিবারের সদস্যরা বুধবার হোয়াইট হাউসের ব্লু রুমের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আতশবাজি উৎসব উপভোগ করেন -এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার অভিষেকের দিন দেশটিকে বিশ্বমঞ্চে ফেরানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আগেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেছিল। বাইডেন গত নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ওয়াশিংটন আবার বৈশ্বিক ফোরামগুলোয় যোগ দেবে বলে জানিয়েছিলেন। গত বুধবার শপথ নেওয়ার পর তার মেয়াদের প্রথম দিনেই তার ইঙ্গিত দিয়েছেন। শপথ গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একগুচ্ছ নির্বাহী আদেশে সই করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের 'বিচ্ছিন্ন হওয়ার নীতি'র বদলে সবাইকে নিয়ে চলার নীতি প্রকাশ করেন তিনি। নির্বাহী ক্ষমতাবলে বদলে দেন আগের প্রশাসনের সব বিতর্কিত আইন। এরই মধ্যে তাকে বিশ্বনেতারা অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে মিত্রদের নিয়ে সুন্দর বিশ্ব গড়ার অঙ্গীকার করেন বাইডেন। গত বুধবার অভিষেকের দিন এসব নির্বাহী আদেশে সই করেছেন বাইডেন। পরে তিনি বলেন, 'সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে অপচয় করার মতো কোনো সময় হাতে নেই। আমি যুক্তরাষ্ট্রের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করতে যাচ্ছি।'

একগুচ্ছ নির্বাহী আদেশের মধ্যে তিনটিই করোনা মোকাবিলার বিষয়ে। দুটি দেশটির অর্থনীতি নিয়ে। এর বাইরে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে আছে জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিবাসন। আরেক আদেশে কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণের বিষয় নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে। সাত মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও তুলে নিয়েছেন বাইডেন। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে তহবিলের জন্য ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ডিক্লারেশন বাতিল করেছেন তিনি। অভিষেকের দিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেননি বাইডেন। তবে সবার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে চলার নীতি পরিস্কার করেন নতুন প্রেসিডেন্ট। বাইডেন ভাষণে বলেছেন, এটা গণতন্ত্রের বিজয়। আর আগামী চার বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বের আস্থা ফেরানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থা ফেরানোর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণতন্ত্রের সংকটগুলো সমাধান করা হবে।

বাইডেন বলেন, এটা পরিস্কার যে, ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব খর্ব হয়েছে। তবে আমাদের উদ্দেশ্য দেশকে সমুন্নত করা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'আমি এটা নিশ্চিত করতে চাই যে বিশ্ববাসী দেখবে আমার যুক্তরাষ্ট্র আরও নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল বৈশ্বিক সহযোগী হয়ে উঠেছে।'

বাইডেন আগেই জানিয়েছিলেন, ইরান, চীনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে করা বিভিন্ন চুক্তি পর্যালোচনা করবে নতুন প্রশাসন। গত মঙ্গলবার বাইডেন মনোনীত পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিনকেন নতুন প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে পরিস্কার ধারণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান ও চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করা হবে। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো মিত্রদের সঙ্গেও সুসম্পর্ক স্থাপনে জোর তৎপরতা চালাবে ওয়াশিংটন। তেহরান ও বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করবে তারা।

বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানের আগ মুহূর্তে গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্ব নেতৃত্বে ফেরার আশা পুনর্ব্যক্ত করে ব্লিনকেন বলেন, ওয়াশিংটন আবার বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে। তবে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে। তিনি বলেন, 'বিশ্বকে আরও সমৃদ্ধ করতে অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় সক্ষমতার দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রই সেরা।' এ ছাড়া তালেবানের সঙ্গে চলমান চুক্তি কার্যক্রমের বিষয়ে পর্যালোচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে কাজ করারও ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির মনোনীত প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিইদ অস্টিন। অন্যদিকে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওসহ ট্রাম্প প্রশাসনের ২৮ শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চীন। গত বুধবার বাইডেনের শপথ নেওয়ার আগে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ওই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তথ্যসূত্র : সিএনএন, আলজাজিরা ও এপি।