বাইডেনের কাছে সহযোগিতা প্রত্যাশায় বিশ্ব

ট্রাম্পের উগ্র জাতীয়তাবাদকে চূর্ণ করবে বলে বিশ্বাস

প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২১

সমকাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর করোনা মহামারি মোকাবিলা, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন সহনীয় করা ও সহযোগিতামূলক বিশ্ব গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ২০ জানুয়ারি অভিষেকের দিন জনস্বার্থে একগুচ্ছ নির্বাহী আদেশে সই করে এসব বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন তিনি। সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'একলা চলো নীতি' থেকে বেরিয়ে সবাইকে সাম্যের বিশ্ব গড়তে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন বাইডেন। তার এই প্রত্যয়কে প্রতিদ্বন্দ্বী চীনসহ বিরোধীরাও স্বাগত জানিয়েছেন। এটাকে বৈশ্বিক সংকটগুলো মূল্যায়ন করে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সুযোগ হিসেবে দেখছে মিত্র ও বিরোধী দেশগুলো। বাইডেনের ঐক্যের আহ্বানে নতুন করে সহায়তার স্বপ্ন দেখছে বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্রের অনেকেই বলেছেন, ৬ জানুয়ারি দেশটির পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটল হিলে হামলার পর গণতন্ত্রের জন্য বাইডেনই 'উপযুক্ত ব্যক্তি'। যারা গণতন্ত্র বিশ্বাস করেন, তারা এমনটাই ভাববেন। যারা এখন যুক্তরাষ্ট্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা ট্রাম্পের উগ্র জাতীয়তাবাদকে চূর্ণ করে দেবেন বলে তাদের বিশ্বাস।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ওই ঐক্যের ডাক দেওয়ার পর এটাকে ওয়াশিংটনের মিত্র দেশগুলো ট্রাম্প আমলের তিক্ত সম্পর্ক মূল্যায়ন করে সুসম্পর্ক স্থাপন এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় একযোগে কাজ করার সুযোগ হিসেবে দেখছে। চীনের মতো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশও বাইডেনের প্রত্যয়কে স্বাগত জানিয়ে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। যদিও বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে প্রযুক্তির তথ্য চুরি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

কলম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও নোবেলজয়ী জুয়ান ম্যানুয়েল স্যাস্তস বলেছেন, বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব বোঝেন বাইডেন। তিনি বলেন, 'বাস্তবতা হচ্ছে আমরা সব জাতি যদি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পরস্পরকে সহযোগিতা না করি, তাহলে সব ধ্বংস হয়ে যাবে। এটা একেবারে সাধারণ হিসাব।'

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জলবায়ু ইস্যুতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ায় তার এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোন ও তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাইলামা। অথচ এই সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন ট্রাম্প।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট টুইটবার্তা বলেছেন, 'আমাদের সময়ের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বাইডেনকে সঙ্গে নিয়ে আমরা আরও শক্তিশালী পক্ষ হবো। শক্তিশালী পক্ষই সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণ করবে, সুরক্ষা দেবে আমাদের গ্রহকে (পৃথিবী)। প্যারিস চুক্তিতে স্বাগত!'

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখন সম্পর্ক পর্যালোচনা করে নতুন বিশ্বের স্বপ্ন দেখছেন।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, বাইডেনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস প্রত্যাশা করেন, একটি বিস্তৃত ও ন্যায়ভিত্তিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনিদের মুক্তি ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবেন বাইডেন।

এ ছাড়া ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও তাইওয়ানের মতো দেশগুলো বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাইডেনের বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় ত্বরিত সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় দেশগুলো। তথ্য সূত্র :এএফপি ও গার্ডিয়ান।