সীমান্তে শান্তির বার্তা ভারত-চীনের

প্যাংগং লেক এলাকা থেকে সৈন্য সরিয়ে নিয়েছে দুই দেশ

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সমকাল ডেস্ক

করোনা মহামারির মধ্যে হঠাৎ লাদাখের প্যাংগং লেক সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার পর দুই দেশের সামরিক উত্তেজনা বড় যুদ্ধের ইঙ্গিত দিলেও সে আশঙ্কা আপাতত আর রইল না। প্যাংগংয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেওয়া সব সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম গত শনিবার প্রত্যাহার করে নিয়েছে উভয় দেশ। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত রোববার দুই দেশের এক যৌথ বিবৃতি গণমাধ্যমে প্রকাশ করে। এর মধ্য দিয়ে চীন ও ভারতের সীমান্তে শান্তির বার্তা পাওয়া গেল। হিমালয় পাদদেশের লাদাখের প্যাংগং লেক এলাকার মালিকানা নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। সেখানে গত জুন মাসে এক রক্তাক্ত সংঘর্ষে ভারত ও চীনের অন্তত ২৪ সেনা নিহত হন। এরপর সেখানে কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে দুই দেশ। তবে সংকট নিরসনে দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করেন। এ পর্যন্ত ৯ দফা বৈঠক করেছেন তারা। অবশেষে সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ঐকমত্যে পৌঁছান তারা।

প্যাংগং লেক এলাকায় ভারত ও চীনের সীমান্ত স্পষ্টভাবে চিহ্নিত না হওয়ায় সেখানে দুই দেশের সৈন্যরা মাঝেমধ্যে মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে। গত বছরের জুন মাসে হঠাৎ সংঘর্ষ হওয়ার পর সেখানে বিপুল পরিমাণ সৈন্য মোতায়েন করে উভয় দেশ।

ভারতের লাদাখ ও চীন-নিয়ন্ত্রিত আকসাই-চিন এলাকায় গত কয়েক মাসে দুই দেশের হাজার হাজার সৈন্য মোতায়েন হওয়ায় যে কোনো সময় সংঘাত বাধতে পারে- এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তবে গত ১১ ফেব্রুয়ারি ভারত ও চীন লাদাখের প্যাংগং লেক এলাকা থেকে তাদের সৈন্য সরিয়ে নিতে সম্মত হওয়ার কথা ঘোষণা করে। এর পর সেখান থেকে সৈন্য সরিয়ে নেওয়া হলো। গত কয়েক দিনে ভারত ও চীনের ঊর্ধ্বতন সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে বেশ কয়েক দফায় বৈঠক হয়। সেখানে চীন প্রথমবারের মতো স্বীকার করে, জুন মাসের সংঘর্ষে তাদের চারজন সৈন্য নিহত হয়েছিল।

ভারত ও চীনের মধ্যে কয়েক দশক ধরে সীমান্ত নিয়ে উত্তেজনা চলছে এবং ১৯৬২ সালে তাদের মধ্যে যুদ্ধ হয়। দু'দেশের মধ্যে প্রায় তিন হাজার ৪৪০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এ দীর্ঘ সীমান্তের বহু স্থানে আজও অমীমাংসিত বা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত নয়। দুই দেশই এখন বলছে, তারা দীর্ঘ সীমান্তের অন্য এলাকাগুলোতেও শান্তি বজায় রাখার জন্য কাজ করবে।