মিয়ানমার পরিস্থিতি

ধর্মঘট-বিক্ষোভে সব অচল

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সমকাল ডেস্ক

ধর্মঘট-বিক্ষোভে সব অচল

বিক্ষোভের পাশাপাশি সোমবার রাজধানী নেপিদোসহ মিয়ানমারজুড়ে ধর্মঘট পালিত হয়। হত্যার হুমকি দিলেও দমেনি আন্দোলনকারীরা। দেশটির বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনের প্রাণকেন্দ্রে লাখো প্রতিবাদী মানুষের ঢল নামে-এএফপি

মিয়ানমারে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত ও অং সান সু চিসহ রাজনীতিবিদদের আটকের প্রতিবাদে গতকাল সোমবার ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেনাবাহিনীর হত্যার হুমকি সত্ত্বেও দেশটির বিভিন্ন শহর-নগরে বিক্ষোভ হয়েছে। বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর গতকাল সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছে। বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এদিন শহরে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সামনে নানা প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করেছেন বিক্ষোভকারীরা। এতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে মিয়ানমার। এদিকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দমন-পীড়ন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। আর দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। খবর এএফপি, রয়টার্স ও আলজাজিরার।

মান্দালয়ে গত শনিবার নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে দু'জন নিহতের পর সংঘাতে আরও প্রাণ কেড়ে নিতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ারও করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং নতুন নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও জেনারেলরা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অভ্যুত্থানের বিরোধিতা এবং বন্দিদের মুক্তির দাবিতে চলা বিক্ষোভ ও আইন অমান্য কর্মসূচি বন্ধে ব্যর্থ হয়েছেন। রোববার রাতে অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলনের পরিচিত মুখ মং সৌংখা সোমবারের বিক্ষোভে যোগ দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। তরুণ এই আন্দোলন কর্মী ফেসবুকে লিখেছেন, 'যাদের বাইরে আসার সাহস নেই, তারা ঘরে থাকুন। যেভাবেই হোক আমি বাইরে বের হব। আমি জেনারেশন জেডকে (চলতি শতকের দ্বিতীয় দশকে যারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে) প্রত্যাশা করছি। পার্টনাররা, চল একত্রিত হই।'

শনিবার দু'জনের প্রাণহানির পর বিক্ষোভকারীর প্রতি হুঁশিয়ারির মধ্যে গতকাল সোমবার ফের রাজপথে নামেন হাজারো বিক্ষোভকারী। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্র পরিচালিত টেলিভিশন এমআরটিভিতে বলা হয়েছে, 'বিক্ষোভকারীরা এখন সাধারণ মানুষকে উস্কানি দিচ্ছেন। তরুণদের তারা সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।'

জান্তা সরকারের দফায় দফায় হুঁশিয়ারি ও ব্যাপক দমন-পীড়ন সত্ত্বেও গতকাল থেকে দেশজুড়ে ধর্মঘট শুরু হয়েছে। এদিন ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। এদিন সব অফিস-আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আহ্বান জানানো হয়েছে। ইয়াঙ্গুগুন ছাড়াও এদিন দেশটির বড় শহরগুলোতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।

নাগরিক অবাধ্যতা আন্দোলন (সিডিএম) নামের একটি সংগঠন লোকজনকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির টুইটে বলা হয়েছে, 'লাখ লাখ মানুষ তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। প্রতিটি শহর যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।' তরুণ বিক্ষোভকারী হেট হেট হদ্মাং জানিয়েছেন, সোমবারের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ভয় পেয়েছিলেন, প্রার্থনা করেছিলেন। তবে তিনি আন্দোলন থেকে নিরুৎসাহিত হবেন না।

তিনি বলেন, 'আমরা জান্তা সরকার চাই না। আমরা গণতন্ত্র চাই। আমরা আমাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে চাই।' তিনি আরও বলেন, 'মা আমাকে এই বিক্ষোভ থেকে আটকে রাখতে পারেননি। তিনি শুধু বলেছেন, নিজের খেয়াল রেখো।'

জান্তা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, তার সরকার সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করলেও বিদেশি কিছু শক্তি অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে।

অন্যদিকে, মিয়ানমারে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ বন্দিদের মুক্তি ও নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সোমবার এ সংস্থার মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, 'অনতিবিলম্বে গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মারাত্মক শক্তি প্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়।'

এদিকে এক টুইটবার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেছেন, মিয়ানমারে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে পুনর্বহালের দাবি করায় যারা মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে। ওয়াশিংটন বার্মার জনগণের পাশে রয়েছে।

এদিকে, দেশটির ওপর বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে ইইউ। গতকাল ব্রাসেলসে ২৭ দেশের এই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংস্থার পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল বলেছেন, 'এখনি তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিন।' শিগগির এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্র।