ভোটের মাঠে গানের লড়াই

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

কলকাতা প্রতিনিধি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার ভোট নিয়ে নানামুখী রাজনৈতিক চর্চা চলছে। ভোট যত কাছে আসছে, ততই বাড়ছে নির্বাচনী প্রচার। সাধারণ মানুষের কাছে যাচ্ছেন নেতা-নেত্রীরা। দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি, চাচ্ছেন ভোট-আশীর্বাদ। চারদিকে মাইকে বাজছে নির্বাচনী স্লোগান। কবিতা, গান, প্যারোডির মাধ্যমে জোরকদমে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চলছে। এগুলোর মধ্যে কিছু গান, প্যারোডি ভোটের বাইরে সাধারণের কাছেও জনপ্রিয় হয়েছে। তেমনি সম্প্রতি 'খেলা হবে বন্ধু' গানের পর সিপিএমের 'টুম্পা সোনা' ও বিজেপির 'পিসি যাও' প্যারোডি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এবার ভোটের মাঠে এসব গানই দলের হয়ে লড়ছে।

২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার আগে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেশ কিছু গান ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়েছিল। ২০২১ সালের নির্বাচনে সেই ধরনের প্রচার এখনও শুরু করেনি তার দল তৃণমূল। তবে এর মধ্যে তৃণমূলের মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্যের গান 'খেলা হবে বন্ধু' ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এই গানের ডিজেও শোনা যায় নির্বাচনী প্রচারের বাইরে কিছু বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে।

তৃণমূলের ওপর গানের পর এবার সিপিএমের 'টুম্পা সোনা' গানটি ভাইরাল হয়ে গেছে। সাধারণের মধ্যে এ গান ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। গানের মূল বক্তব্য হচ্ছে- চাকরি না পাওয়ায় পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করতে না পারা হতাশ এক বাঙালি যুবক তার প্রেমিকা টুম্পাকে বলছে, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে গিয়ে বামফ্রন্টের সমাবেশে জোট বেঁধে যোগ দিতে। কার্টুন ছবি দিয়ে বানানো ভিডিওটিতে বিজেপি এবং তৃণমূলকে সমধর্মী বলে কটাক্ষ করে, বামরাই যে একমাত্র বিকল্প, সে কথা বলা হয়েছে।

সিপিএমের এই প্যারোডি নিয়ে ইতোমধ্যে দলের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। অনেকেই বলছেন, বামপন্থিদের গণসংগীত যেখানে হেমাঙ্গ বিশ্বাস, সলিল চৌধুরীদের ঐতিহ্য এবং মর্যাদার উত্তরাধিকার বহন করছে, সেখানে এই গান বামপন্থার সম্মানহানি করেছে।

অন্যদিকে একাংশের দাবি, যে রকমের গানই হোক না কেন, তা যদি মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কাজটি করতে পারে, তাহলে তার জাত-বিচার করা উচিত নয়।

এদিকে প্রতিবাদের বিখ্যাত গান 'বেলা চাও'র সুরে 'পিসি যাও' নামে গান তৈরি করেছে বিজেপি। পিসি বলতে অবশ্যই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি তৃণমূলের সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিসি। তার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ করেছে বিজেপি। গতকাল তার স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিবিআই। এসব কারণে ভোটের মাঠে জনপ্রিয় হয়েছে গানটি।

অন্যদিকে, গতকাল দার্জিলিংয়ে পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করতে পাহাড়ে যান বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সেখানে তাকে কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখান মোর্চার বিমল গুরুংপন্থিরা। পরে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ।

এদিন দার্জিলিংয়ের ঘুম এলাকা থেকে শুরু হয় বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা। কর্মসূচির সূচনা করতে সেখানে যান দিলীপ ঘোষ ও বারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং। ঘুমে পৌঁছার পর দিলীপ ঘোষ গাড়ি থেকে নামতেই কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। মুহূর্তে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যে বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দেয় পুলিশ। এরপর যাত্রার সূচনা করেন দিলীপ।

দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, 'পাহাড়ের মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল ও বিমল গুরুং। মানুষ তাই ওদের সঙ্গে নেই। বিজেপি পাহাড়ের মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। তাই পাহাড়ের ছোট দলগুলো বিজেপির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে।'

তিনি আরও বলেন, 'তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি সরে গেছে বলে পাহাড় ও জঙ্গলমহলে দেশদ্রোহিতায় অভিযুক্তদের মাঠে নামিয়েছে। বিমল গুরুংয়ের

বিরুদ্ধে মামলা রাজনৈতিক কারণে প্রত্যাহার করেছে রাজ্য সরকার।'

দার্জিলিং থেকে শুরু হওয়া পরিবর্তন যাত্রা কার্শিয়াং ও কালিম্পং হয়ে শিলিগুড়িতে মূল পরিবর্তন যাত্রার সঙ্গে মিশবে বলে জানিয়েছেন তিনি।