সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর উদ্ভূত সংকট থেকে মিয়ানমারকে বের করতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জোট আসিয়ানকে সঙ্গে নিয়ে একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের চেষ্টায় নেমেছে ইন্দোনেশিয়া। চীনও এ উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগে সেনাবিরোধী বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়ে গেছে। এ জন্য নেপিদো সফর বাতিল করেছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি। খবর ইরাবতি, বিবিসি ও রয়টার্সের।

ইন্দোনেশিয়ার কূটনৈতিক উদ্যোগে আলোচনার টেবিলে রাখা হয়েছে সেনাবাহিনীর পরিকল্পনা মেনে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তাদের এক বছর সময় দেওয়া। বিষয়টি মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক দলগুলোকে বোঝানোর চেষ্টা রয়েছে জাকার্তার তৎপরতায়। তবে এ উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বিক্ষোভকারীরা। সেনা সরকারের পতনের দাবির সঙ্গে নতুন করে ইন্দোনেশিয়ার কূটনৈতিক উদ্যোগের নিন্দা যুক্ত হয়েছে প্রতিবাদ-সমাবেশে। ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়ে গতকালের বিক্ষোভে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চি ও আটক অন্যদের মুক্তি দাবি করেছেন তারা।

এদিকে ইন্দোনেশিয়ার পরররাষ্ট্রমন্ত্রী নেপিদো সফর বাতিল করলেও কূটনৈতিক উদ্যোগ থেমে যায়নি। মিয়ানমারের জান্তা সরকারের নিয়োগ দেওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ উন্না মাউং লুইন গতকাল থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। সেখানে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনোর সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এ উদ্যোগে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আসিয়ানকে সঙ্গে নিয়ে ইন্দোনেশিয়া যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে সহযোগিতা করবে বেইজিং।

মিয়ানমারের নাগরিকদের বহিস্কার করল মালয়েশিয়া :এদিকে মিয়ানমারে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে মালয়েশিয়া সরকার এক হাজার ৮৬ জন মিয়ানমারের নাগরিককে বহিস্কার করে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। মালয়েশিয়ার আদালত নিষেধাজ্ঞা দিলেও তা শোনেনি সরকার। যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু বা শরণার্থী নেই বলে জানিয়েছে কুয়ালালামপুর। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, ফেরত পাঠানোদের মধ্যে মিয়ানমারের সংখ্যালঘু নৃগোষ্ঠীর লোকজনও রয়েছেন, যারা নিজ দেশে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তারা বলছেন, মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা নিয়েছে, তাই এখন তাদের ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ায় তারা আরও বড় ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন।

মন্তব্য করুন