মিয়ানমারে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলার প্রেক্ষাপটে দেশটির বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান জানিয়েছে ৩১টি দেশের ১৩৭টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও)। গত বুধবার জাতিসংঘের কাছে লেখা এক যৌথ চিঠিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আরও প্রতিবাদের পরিকল্পনা করেছেন দেশটির শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে সমাবেশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা, তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে করে সামরিক শিক্ষা প্রচারকারী টেক্সট বই নিয়ে আসতে বলেছেন যেন প্রতিবাদস্থলে সেগুলো ধ্বংস করা যায়। এ ছাড়া অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের জেরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী-সংশ্নিষ্ট সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুক। গতকাল বৃহস্পতিবার একই সঙ্গে সেনা নিয়ন্ত্রিত সব কোম্পানির বিজ্ঞাপনও ফেসবুক থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের কাছে লেখা চিঠিতে ১৩৭টি এনজিও বলেছে, মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের জবাব ও জান্তা সরকার যাতে নতুন করে নিপীড়ন চালাতে না পারে সে লক্ষ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচিত দেশটির বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে বৈশ্বিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করা।

চিঠিতে স্বাক্ষর করা এনজিওগুলোর কয়েক ডজন এশিয়ার বিভিন্ন দেশের। স্বাক্ষরকারী এনজিওগুলো বলেছে, নিরাপত্তা পরিষদের উচিত বিশেষ বিশেষ খাতে ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং জান্তা নেতাদের ও সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পত্তি জব্দ করা। চীন, ভারত, ইসরায়েল, উত্তর কোরিয়া, ফিলিপাইন, রাশিয়া ও ইউক্রেনসহ যেসব দেশের সরকার মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করছে, তাদের অবিলম্বে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সংশ্নিষ্ট সরঞ্জাম সরবরাহ বন্ধ করা দরকার। উল্লিখিত দেশগুলোর মধ্যে তিনটি নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য। তারা হলো স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া এবং অস্থায়ী সদস্য ভারত। চিঠিতে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) পরিচালক কেনেথ রথ লেখেন, রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে চালানো নিষ্ঠুরতা, দশকের পর দশক ধরে চালিয়ে যাওয়া যুদ্ধাপরাধ ও সর্বশেষ নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ নূ্যনতম পদক্ষেপ হিসেবে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে।

এদিকে বিক্ষোভ আরও বেগবান করার পরিকল্পনা করেছেন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা। ইয়াঙ্গুনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ২৫ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী কং সাত ওয়াই বলেন, অভ্যুত্থানের পর থেকে আমাদের জীবন আশা হারিয়েছে, স্বপ্নের মৃত্যু হয়েছে। স্বৈরতন্ত্রকে সমর্থন করা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমরা গ্রহণ করব না। অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে নাগরিক অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়েছে দেশটির বহু পেশাজীবী ও সরকারি কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার এই অসহযোগের সমর্থনে মিছিল করেন চিকিৎসকরা। মানবাধিকার গ্রুপ অ্যাসিসট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) জানিয়েছে, বুধবার বিক্ষোভের সময় ৭২৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনা সরকার। অপরদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীকে তারা তাদের এ প্ল্যাটফর্ম ও ইনস্টাগ্রাম থেকে নিষিদ্ধ করেছে। দেশটিতে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের প্রতিবাদে গণতন্ত্রপন্থি মানুষের বিক্ষোভ চলছে। খবর আলজাজিরা, বিবিসি ও এএফপির।

মন্তব্য করুন