সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যায় সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে (এমবিএস) দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশের পর তা প্রত্যাখ্যান করেছেন যুবরাজের সমর্থকরা। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক মিনিট পরই খাশোগি হত্যায় যুবরাজের দায় মোচনে নতুন কৌশল নিয়েছেন তার সমর্থকরা। অনলাইনে এমবিএসের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। টুইটারে চালু করেন, 'আমরা সবাই মোহাম্মদ বিন সালমান' নামে একটি হ্যাশট্যাগ। খবর রয়টার্সের।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'আমরা সবাই মোহাম্মদ বিন সালমান' নতুন এই হ্যাশট্যাগ তৈরি করেছেন সৌদি যুবরাজের সমর্থকরা। সমর্থকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমবিএসের সম্পৃক্ত থাকার অকাট্য কোনো প্রমাণ নেই। আর মানবাধিকার সংগঠনগুলো চাইছে, খাশোগি হত্যার ঘটনায় যুবরাজ ও সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠতা অনেক আগে থেকে হলেও তা সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে আরও সুদৃঢ় হয়। তবে খাশোগি, ইয়েমেন সংকট ও সৌদির মানবাধিকার লঙ্ঘন ইস্যুতে বরাবরই সোচ্চার নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি খাশোগির হত্যাকাণ্ডে এমবিএসকে দায়ী করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে ওয়াশিংটন। এর পরই সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা নাকচ করে দিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৌদির নেতৃত্ব নিয়ে এই প্রতিবেদনে নেতিবাচক, মিথ্যা ও অগ্রহণযোগ্য তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, এই 'বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের' বিচার করেছেন সৌদি আরবের আদালত। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারে সাজাও হয়েছে।

এ ঘটনায় এমবিএসের সমর্থকদের পাশাপাশি সরকারপন্থি বিশ্নেষকরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুবরাজের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিদাতাদের একজন হলেন আলি শিহাবি, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আরাবিয়া ফাউন্ডেশনের প্রধান ছিলেন। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিনি টুইটারে লিখেছেন, 'এই প্রতিবেদনে এমন কিছু নেই, যা আগে বলা হয়নি। এ ছাড়া যুবরাজকে দোষী সাব্যস্ত করার মতো কোনো তথ্যপ্রমাণ এতে নেই।' একই ধরনের মন্তব্য করেছেন সরকারপন্থি বুদ্ধিজীবী আবদুল রহমান আল-রাশেদ। তিনিও টুইটারে লিখেছেন, 'যুবরাজকে দোষী সাব্যস্ত করার মতো কোনো তথ্যপ্রমাণ যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে নেই।'

যুক্তরাষ্ট্রের ওই প্রতিবেদন নিয়ে সৌদি আরবের সংবাদপত্র ও টেলিভিশনগুলো কোনো ধরনের সংবাদ প্রকাশ করেনি। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ায় শুধু গতকাল সন্ধ্যার খবরে ছোট করে একটি সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। তবে এতেও তথ্যপ্রমাণের বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আর দেশটির পত্রিকা ওকাজ এমবিএসের একটি বড় ছবি জুড়ে দিয়ে 'দেশ সুরক্ষিত' শিরোনামে প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

মন্তব্য করুন