ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে শক্তিশালী দুই দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপিকে রাজ্য থেকে উৎখাতের ডাক দিয়েছে বাম-কংগ্রেস জোট। জোটের নতুন শরিক ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকির দল ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)। গতকাল রোববার কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড ময়দানে বিশাল জনসভা করে এই জোট। সেখান থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ তুলে তাদের প্রত্যাখ্যান করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান জোট নেতারা। তবে চোখে পড়ার মতো বিষয় ছিল, আব্বাস সিদ্দিকির বক্তব্যেই উঠে আসা তার সঙ্গে কংগ্রেসের দূরত্বের বিষয়টি।

গতকালের ব্রিগেড ময়দানের জনসভায় অসুস্থতার কারণে থাকতে পারেননি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তারপরও জনসভা ঘিরে বামপন্থি দলগুলোর কর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক উচ্ছ্বাস ছিল। গত রোববার রাত থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে 'টুম্পা সোনা' গান বাজিয়ে ময়দানে জড়ো থাকেন তারা। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো- এই প্রথম কংগ্রেসের সঙ্গে ব্রিগেড ময়াদানে যৌথ জনসভা করল কংগ্রেস।

জনসভায় সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, 'জাত-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ নিপীড়িত হচ্ছে। তাদের কাছে আমাদের পৌঁছাতে হবে। রাজনীতিতে এখন চাটুকারিতার গান চলছে। একই ব্যক্তি একবার এ পক্ষের হয়ে গাইছে, আবার ও পক্ষের হয়েও গাইছে। গানের নামে এই চাটুকারিতা করা হচ্ছে প্রকৃত শোষণ-বঞ্চনাকে চাপা দিয়ে ভোটে জেতার জন্য। আমাদের লড়াই তাদের বিরুদ্ধেই।'

বাম-কংগ্রেসের যৌথ ব্রিগেড সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে উৎখাতের পাশাপাশি জোট নিয়ে কংগ্রেসকে বার্তা দিলেন আইএসএফ নেতা আব্বাস সিদ্দিকি। কংগ্রেসকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, শরিক হিসেবে নির্বাচনে এসেছি, কাউকে তোয়াজ করতে নয়। যেখানে যেখানে বাম শরিকরা প্রার্থী দেবে, সেখানে জয়ের জন্য সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করব। পুরোনো দিনে কী হয়েছে, সব ভুলে গিয়ে বিজেপি ও মমতা সরকারকে আমরা উৎখাত করেই ছাড়ব।'

নিজের দিকে ইঙ্গিত করে আব্বাস সিদ্দিকি বলেন, একমাত্র এই বাঘের বাচ্চা মমতার বিরুদ্ধে কথা বলে। চ্যালেঞ্জ দিয়ে গেলাম, এবার মমতাকে জিরো করে আমরা দেখিয়ে দেব। সঙ্গে বিজেপি নামক কালো হাতটাকে ভেঙে দেশ থেকে উধাও করে দিতে হবে।

আব্বাস সিদ্দিকিকে ঘিরে নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস দেখে ক্ষিপ্ত হন রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি অধীর চৌধুরী। সেই আব্বাস তার বক্তব্যে বামপন্থি দলগুলোকে বারবার বন্ধু বলে উল্লেখ করলেও কংগ্রেসের নাম উল্লেখ করেননি। উপরন্তু আসন সমঝোতার প্রশ্নে কংগ্রেসকে ছাড় না দেওয়ার বার্তা দেন তিনি।

আব্বাসকে মঞ্চে স্বাগত জানান বাম নেতা মহম্মদ সেলিম, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। এ সময় মঞ্চের সবাই উঠে দাঁড়িয়ে আব্বাসকে স্বাগত জানান। তবে অধীরের সঙ্গে কোনো কথা হয়নি তার।

জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বিমান বসু, সীতারাম ইয়েচুরি, মহম্মদ সেলিম, আবদুল মান্না, প্রদীপ ভট্টাচার্য, অধীর চৌধুরী, ঐশী ঘোষ, চলচ্চিত্র পরিচালক তরুণ মজুমদার, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী, বাদশা মৈত্র ও শ্রীলেখা মিত্র প্রমুখ।

মন্তব্য করুন