যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) সঙ্গে নিয়ে এই বৈঠকে ইরানের পরমাণু চুক্তি ও তা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে গত রোববার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদেহ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটন তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা না তুলে নিলে কোনো রকম আলোচনায় বসা সম্ভব নয়। খবর এএফপি ও রয়টার্সের।

জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে ইরান একের পর এক কঠোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। একদিকে যেমন দেশে ইউরেনিয়ামের মজুদ বাড়ানো হয়েছে, তেমনই পরমাণু কেন্দ্রগুলোর ছবি জাতিসংঘকে দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেন, 'পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে ইউরোপ সম্প্রতি যে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে তার জন্য বর্তমান সময়কে উপযুক্ত মনে করছে না তেহরান। এই সমঝোতার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও তিন ইউরোপীয় দেশের সাম্প্রতিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে ইরান আলোচনায় না বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।' তেহরানের কর্মকর্তারা বলেন, ২০১৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তা দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে।

পরমাণু চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় রাজি বাইডেনের প্রশাসন। তবে এখনই নিষেধাজ্ঞা তোলার পক্ষে নয় তারা; বরং আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধানে পৌঁছাতে চায় ওয়াশিংটন।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনায় ইরানও আগ্রহী। তবে তার আগে নিষেধাজ্ঞা তুলতে হবে। ইরান জানিয়েছে, ইইউর কূটনীতিক জোসেপ বোরেলের সঙ্গে তাদের আলোচনা জারি থাকবে। ইইউ, জার্মানি, রাশিয়া, ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় তাদের আপত্তি নেই।

ইরান আলোচনায় রাজি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন। তবে বাইডেন সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, আবার আলোচনার জন্য প্রস্তুত ওয়াশিংটন। আলোচনার মাধ্যমেই জট কাটাতে হবে।

স্থানীয় সময় গত রোববার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জেন সাকি পরমাণু চুক্তির বিষয়ে বলেন, 'আমরা ইরানের প্রতিক্রিয়ায় হতাশ হলেও একই সঙ্গে উভয় পক্ষের এই সমঝোতায় ফিরে আসার লক্ষ্যে অর্থবহ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে নিজেদের প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করছি।'

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে পরমাণু সমঝোতার বাকি পাঁচ দেশ চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির সঙ্গে আলোচনা করবে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি হচ্ছে, ওয়াশিংটন পরমাণু সমঝোতায় ফেরার সময় ইরানকেও তার প্রতিশ্রুতিতে ফিরতে হবে। তবে তেহরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার এক বছর পর ইরান এতে দেওয়া নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরিমাণ কমাতে শুরু করে। কাজেই যুক্তরাষ্ট্রকে আগে এই সমঝোতায় ফিরে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে প্রত্যাহার করতে হবে। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার সুফল বাস্তবে পাওয়ার পর ইরান এই সমঝোতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে পূর্ণাঙ্গভাবে ফিরে যাবে।

মন্তব্য করুন