ভারতের আসাম বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ সম্প্রতি মোট তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১২৬ আসনের এই নির্বাচন ২৭ মার্চ শুরু হয়ে গত মঙ্গলবার শেষ হয়। ওই নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকে বিতর্কে জড়ায় রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি ও বিরোধী কংগ্রেস জোট। টানটান উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং বহু বিতর্কের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ভোট গ্রহণ। তিন ধাপে শেষ হওয়া এ নির্বাচনের ফলাফল ২ মে ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। প্রকাশিতব্য এই ফলাফল নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্নেষণ।

এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেস জোট বদরুদ্দিন আজমলের মতো আঞ্চলিকভাবে প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে নিয়ে লড়েছে। আগের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে জোটবদ্ধ হয়ে ক্ষমতায় যায় বিজেপি। তবে এবার জাতীয় নাগরিক তালিকাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে শুরুতে কিছু অঞ্চলে ব্যাপক চাপে থাকে দলটি। এদিকে, বিপিএফও এবারের নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। এমন বাস্তবতায় ভোটের সমীকরণ হচ্ছে, বিজেপির আগের সেই শক্ত অবস্থান আর নেই। আবার বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার দেশটির নাগরিকত্ব আইন প্রণয়ন করায় তা নিয়ে আসামসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে এর তীব্র বিরোধিতা করা হয়। তা সত্ত্বেও এটা পরিবর্তন করেনি কেন্দ্র। এমন বাস্তবতায় আসামের বিশাল জনগোষ্ঠী ওই সিএএ নিয়ে অখুশি রয়েছে। আবার অন্য আইন সংশোধন করে একটা অংশকে আবার প্রবলভাবে খুশিও করেছে কেন্দ্র। তারাই বিজেপিকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন দিচ্ছে।

এদিকে, আসামের অন্যতম গুরুত্ব অঞ্চল হচ্ছে বোড়োল্যান্ড। এই অঞ্চলের ১২টি আসনই গতবার পেয়েছিল বিপিএফ। যারা এবারের নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। আর আসামের শেষ ও চূড়ান্ত ধাপের ভোটের ৪০ আসনের মধ্যে একটি বড় অংশ কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। মূলত এসব আসনে ফলাফলের ওপর চূড়ান্ত জয়-পরাজয় নির্ধারণ হবে।

এবারের আসাম বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিতর্ক হয়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ শেষে এখানকার একটি বুথে গণনার পর ১৮১ ভোট পড়তে দেখা যায়। অথচ ওই বুথে নিবন্ধিত ভোটার ছিল ৯০ জন। সে সময় এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘটনাটি ১ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ভোটের দিনের। আসামের দিমা হাসাও জেলার হাফলং আসনের ১০৭ (এ) খোথলির লোয়ার প্রাইমারি স্কুলের একটি বুথে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর তদন্তে নামে নির্বাচন কমিশন। প্রাথমিক তদন্তে পোলিং অফিসাররা দোষ স্বীকার করে নেন। পরে ছয় কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়।

এর আগে প্রথম দফার ভোট শেষে আসামের করিমগঞ্জ জেলার রাতাবাড়ি আসনে বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি থেকে ইভিএম উদ্ধার হয়। ওই ঘটনায় বরখাস্ত করা হয় চার নির্বাচনী কর্মকর্তাকে। ওই আসনে পুনরায় ভোট গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

গত মঙ্গলবার শেষ ধাপে হওয়া ৪০টি আসনের মধ্যে ২০১৬ সালের নির্বাচনে ১৫টি পেয়েছিল বিজেপি-এজেপি জোট। তাদের জোটসঙ্গী বিপিএফ পেয়েছিল আটটি আসন আর কংগ্রেস ১১টি ও এআইইউডিএফ ছয়টি আসনে জিতেছিল। আর তিন ধাপের চূড়ান্ত ভোট গ্রহণ শেষে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আসাম বিধানসভা নির্বাচনে ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, 'দুই দফার ভোটেই আসামে সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেছে বিজেপি। আরও একটা সুখবর দিয়ে রাখছি, বাংলাতেও (পশ্চিমবঙ্গে) দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) যাচ্ছেন, বিজেপি আসছে। দুইশর বেশি আসন পেয়ে বঙ্গদখল করবে বিজেপি।'

এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও আসামে বিজেপির জয় পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেছেন, ফল ঘোষণার পর সেখানে সরকার গঠন করবে বিজেপি।

অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট এবারের নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ করলেও জয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। তবে ২ মে-ই জানা যাবে আসাম রাজ্যে কারা সরকার গঠন করছে।

মন্তব্য করুন