বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধে আফ্রিকান দেশ চাদের প্রেসিডেন্ট ইদ্রিস দেবি নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক ঘোষণায় সেনাবাহিনী এ কথা জানিয়েছে। বর্তমানে দেশটির ক্ষমতা গ্রহণ করেছে সেনাবাহিনী। খবর বিবিসির।

সেনাবাহিনী জানায়, চাদে অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরপরই সীমান্ত এলাকায় বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনি নিহত হন। ওই নির্বাচনে তিনি ৮০ শতাংশ ভোট পেয়ে ষষ্ঠবারের মতো প্রেসিডেন্ট হিসেবে জয় পেয়েছিলেন। ১১ এপ্রিল নির্বাচনের ফলাফল সোমবার প্রকাশ করা হয়।

দেবি নিহত হওয়ায় সরকার ও সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৮ মাস সামরিক পরিষদ দেশ শাসন করবে। নিহত প্রেসিডেন্টের ছেলে জেনারেল মহামাত কাকা দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ইদ্রিস দেবি ১৯৯০ সালে এক সশস্ত্র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে চাদের ক্ষমতায় এসেছিলেন। গত সপ্তাহে তিনি দেশটির উত্তরাঞ্চলে লিবিয়া সীমান্তে গিয়েছিলেন। নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিজয় ভাষণের আগেই তিনি ওই অঞ্চল সফরে যান। সেখানে বিদ্রোহীদের দমনে লড়াই করছিল সেনাবাহিনী।

আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় ছিলেন ৬৮ বছর বয়সী ইদ্রিস দেবি। দেশটিতে বেশ কয়েকবার বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর লড়াই দমন করেছেন তিনি। বিদ্রোহী দমনে তাকে প্রায়ই সহায়তা করছে ফ্রান্সের সামরিক বাহিনী। দেশের জাতীয় তেলসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্রমাগত অসন্তোষের মুখেও নির্বাচনে জয়ী হন দেবি। ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবার বিদ্রোহ দেখা দিলেও তিনি তা সফলভাবেই দমন করেছেন।

এর আগে এক খবরে জানা গেছে, চাদের সেনাবাহিনী দেশটির উত্তরাঞ্চলে অন্তত ৩০০ বিদ্রোহীকে হত্যা করেছে। কোনো সূত্র অবশ্য চাদের সেনাবাহিনীর এ দাবির বিষয়ে নিশ্চিত করেনি। আট দিন আগে চাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন চলাকালে হামলা চালান বিদ্রোহীরা। এরপর তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। এতে পাঁচ সেনাসদস্যও নিহত হন।

দেবির শাসনের বিরোধিতা করে আসছে সশস্ত্র বিদ্রোহীরা। প্রতিবেশী লিবিয়ায় তাদের ঘাঁটি। সেখান থেকে চাদের ভেতরে প্রায়ই হামলা চালায় তারা। ১১ এপ্রিল চাদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন চলাকালে তারা হামলা চালায়। এরপর অভিযান চালিয়ে ৩০০ বিদ্রোহী যোদ্ধাকে হত্যা করে সেনাবাহিনী।

মন্তব্য করুন