ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ৮৫ শতাংশ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে কংগ্রেসের। এমনকি নিজের আসনেও জয় পাননি দলের রাজ্য সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বাম-আইএসএফের সঙ্গে জোট করে ভোটে একেবারে শূন্য হাতে ফিরেছে এক সময়ের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস। খবর জিটিভি ও নিউজ১৮ বাংলার।

কংগ্রেসের দুর্গ হিসেবে পরিচিত মাটিগাড়া-নকশালবাড়ী ও গোয়ালপোখর আসনে নির্বাচনী প্রচার করেছিলেন স্বয়ং রাহুল গান্ধী। তাতেও প্রাণ সঞ্চার করতে পারেনি সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বাধীন দলটি। সংযুক্ত মোর্চায় আব্বাস সিদ্দিকীর দলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে শুরু থেকেই অস্বস্তিতে ছিল কংগ্রেস। এমনকি ব্রিগেডের সভায় আব্বাসকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন অধীর। তার পরও তাদের টপকে আইএসএফ একটি আসন পেয়েছে। হাড়োয়া, বসিরহাট উত্তর, দেগঙ্গা এবং ক্যানিং-পূর্বে বিজেপিকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে আইএসএফ।

তবে বাম এবং কংগ্রেসের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, রোববার প্রকাশিত ২৯২ আসনের মধ্যে ৪২টি আসন বাদ দিয়ে সব আসনে জামানত হারিয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থীরা।

মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীদের যে টাকা জমা দিতে হয়, তাকেই জামানত বলা হয়। ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর যদি দেখা যায়, সংশ্নিষ্ট আসনের প্রার্থী ওই কেন্দ্রে জমা পড়া মোট ভোটের ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটও পাননি, সে ক্ষেত্রে ওই টাকা আর ফেরত পান না তিনি।

পশ্চিমবঙ্গের মাটিগাড়া-নকশালবাড়ী আসনটি দীর্ঘ এক দশক ধরে কংগ্রেসের দখলে ছিল। এবার সেখানে হেরেছেন কংগ্রেস প্রার্থী শঙ্কর মালাকার। মোট ৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন তিনি। গোয়ালপোখরের কংগ্রেস প্রার্থী মাসুদ মহম্মদ নাসিম এহসান পেয়েছেন ১২ শতাংশ ভোট। ২০০৬ থেকে ২০০৯ এবং ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ওই আসন কংগ্রেসের দখলে ছিল। তিন দলের হিসাব আলাদা করলে দেখা যায়, ১৭০টি আসনে লড়ে মাত্র ২১টিতে জামানত রক্ষা করতে পেরেছে বামপন্থিরা। ৯০টির মতো আসনে লড়ে কংগ্রেস ১১টিতে মুখরক্ষা করেছে। আর আইএসএফ ৩০টিতে লড়ে ১০টিতে জামানত বাঁচিয়েছে। আইএসএফ একমাত্র ভাঙড় আসনে জিতেছে। সংযুক্ত মোর্চার প্রাপ্তি ওটুকুই।

মন্তব্য করুন