ফিলিস্তিনের পূর্ব জেরুজালেমে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ এলাকায় দখলদার বাহিনীর তাণ্ডব অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে মুসল্লিদের ওপর হামলার পর গতকাল সোমবার সকালে মসজিদ কম্পাউন্ডে অভিযান চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় তারা মসজিদ এলাকা ঘেরাও করে রাখে। মুসল্লিদের ওপর রাবার কোটেড বুলেট, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড বোমা নিক্ষেপ করে। এতে দুইশ'র বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়। গতকাল জেরুজালেমে মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে ইহুদি জাতীয়তাবাদীরা। ফলে এই মিছিল ঘিরে আরও সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় ইসরায়েলি পুলিশের সাফাই গাইলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, শান্তি বিনষ্ট করতে কোনো ধরনের উগ্রবাদ মেনে নেওয়া হবে না।

ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, এদিন দখলদার বাহিনীর হামলায় দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ৭০ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডবের খবর সংগ্রহের জন্য আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে উপস্থিত অন্তত ছয়জন সাংবাদিকও এ সময় আঘাত পান। তবে আহতদের সেবা দিতে ঘটনাস্থেেল চিকিৎসাকর্মীদের যেতে দেয়নি ইসরায়েলি বাহিনী। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মসজিদের ভেতরে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করছে দখলদার বাহিনী। মসজিদের অভ্যন্তরে নারীদের নামাজ আদায়ের অংশেও স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তারা।

টানা তৃতীয় রাতের মতো জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের ওপর তা ব চালিয়েছে ইসরায়েলি পুলিশ। সোমবার মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে ইহুদি জাতীয়তাবাদীরা। এ পরিস্থিতিতে সেখানে আরও সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপন নিয়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। জেরুজালেম থেকে নতুন করে ফিলিস্তিনিদের তাড়ানো হবে বলে আশঙ্কা ছড়ানোর পর এই উত্তেজনা শুরু হয়।

এদিকে ইসরায়েলি পুলিশের পক্ষে সাফাই গাইলেন নেতানিয়াহু। সংঘর্ষের এ ঘটনায় ইসরায়েলের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে জর্ডান, মিসর, তিউনিশিয়া, পাকিস্তান, কাতার, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। কিন্তু নেতানিয়াহু এসব সমালোচনা গায়ে মাখছেন না। তিনি বলেন, ইসরায়েলের ওপর যে চাপ তৈরি করা হচ্ছে, তা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। হতাশার বিষয় হলো, এই চাপ দিন দিন বাড়ছে।

মন্তব্য করুন