ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে ৪৩ জন শপথ নিয়েছেন। গতকাল সোমবার রাজভবনে তাদের শপথবাক্য পাঠ করান পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তাদের মধ্যে ২৪ জন পূর্ণ মন্ত্রী। ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী। প্রতিমন্ত্রীদের ১০ জন আবার স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে এই মন্ত্রিসভার মোট সদস্য হলেন ৪৪ জন। ছয় দপ্তর নিজের হাতে রাখলেন মমতা। পরে সচিবালয় নবান্নে গিয়ে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক করে দপ্তর বণ্টন করেন মমতা।

এবারের মন্ত্রিসভায় ১৬ জনকে নতুন মন্ত্রী করা হয়েছে। নারী মন্ত্রী হয়েছেন আটজন। এ ছাড়া মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে সাতজন মুসলিম সম্প্রদায়ের। এবার বাদ গেছেন আটজন সাবেক মন্ত্রী। করোনার কারণে এবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হয়েছে ছোট আকারে, রাজভবনের থ্রোন হলে। মহামারির কারণে শপথ অনুষ্ঠানে সর্বাধিক ৫০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ হয় তিন পর্যায়ে একসঙ্গে। প্রথম পর্যায়ে পূর্ণ মন্ত্রী, দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) এবং তৃতীয় পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রীদের।

পূর্ণ মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন- সুব্রত মুখার্জি, পার্থ চ্যাটার্জি, অমিত মিত্র, সাধন পাণ্ডে, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, বঙ্কিম চন্দ্র হাজরা, মানস রঞ্জন ভূঁইয়া, সৌমেন কুমার মহাপাত্র, মলয় ঘটক, অরূপ বিশ্বাস, উজ্জ্বল বিশ্বাস, অরূপ রায়, রথিন ঘোষ, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রনাথ সিনহা, শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়, ব্রাত্য বসু, পুলক রায়, শশী পাঁজা, মো. গোলাম রব্বানী, বিপ্লব মিত্র, জাভেদ আহমেদ খান, স্বপন দেবনাথ ও সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। তাদের মধ্যে ১৬ জন এবারই প্রথম মন্ত্রী হলেন। প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন ১৯ জন। এর মধ্যে ১০ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত। তারা হলেন- বেচারাম মান্না, সুব্রত সাহা, হুমায়ুন কবীর, অখিল গিরি, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, রত্না দে নাগ, সন্ধ্যা রানী টুডু, বুলু চিক বরাইক, সুজিত বসু ও ইন্দ্রনীল সেন। বাকি নয় প্রতিমন্ত্রী হলেন- দিলীপ মণ্ডল, আখতারুজ্জামান, শিউলি সাহা, শ্রীকান্ত মাহাতো, ইয়াসমীন সাবিনা, বীরবাহা হাঁসদা, জ্যোৎস্না মান্ডি, অধিকারী পরেশ চন্দ্র ও মনোজ তিওয়ারি। শপথের পর এদিন নবান্নে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক করে দপ্তর বণ্টন করেন মমতা। এবার স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্যবিষয়ক দপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, তথ্য ও সংস্কৃৃতি, প্রশাসন ও কর্মিবর্গ, ভূমি ও ভূমি সংস্কার, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং উদ্বাস্তু ও পুনর্বাসন দপ্তর হাতে রাখলেন তৃণমূল নেত্রী। অর্থমন্ত্রী করলেন আগের দুই দফায় থাকা এই দপ্তরের মন্ত্রী অমিত মিত্রকে। পার্থ চট্টোপাধ্যায় হলেন শিল্প, বাণিজ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের মন্ত্রী। খাদ্যমন্ত্রী হলেন মন্ত্রিসভার নতুন মুখ রথিন ঘোষ। ফিরহাদ হাকিম পেলেন পরিবহন ও আবাসন দপ্তর। চন্দ্রিমা আগে স্বাস্থ্য ও আবাসন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। মলয় ঘটক হলেন আইন ও বিচারবিভাগীয় দপ্তরের মন্ত্রী।

মন্তব্য করুন