জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ এলাকায় নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের তাণ্ডব অব্যাহত রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার গাজায় হামাসের শীর্ষস্থানীয় এক কমান্ডারের বাড়ি ও দুটি সীমান্ত সুড়ঙ্গ লক্ষ্য করে ফের বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এতে দুই জন নিহত হয়েছে। গত সোমবার স্থানীয় সময় রাতে হামলায় শিশুসহ নিহত বেড়ে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া দুই দেশকেই শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। এ পর্যন্ত সংঘর্ষে ৭০০ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট গতকাল জানিয়েছে। খবর আলজাজিরা, বিবিসি ও এএফপির।

এএফপির খবরে জানা যায়, ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও ওই বৈঠকের পর কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। কূটনীতিকরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ধারণা করছে, এই বৈঠক নিয়ে প্রকাশ্যে বিবৃতি দিলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে। জানা গেছে, পূর্ব জেরুজালেম থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ ও ইসরায়েলের নতুন বসতি স্থাপন বন্ধের আহ্বান জানানো হবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ থেকে। এ ছাড়া পশ্চিম তীরে উত্তেজনা বৃদ্ধি ও সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে বিবৃতিতে।

কূটনীতিকরা বলেন, এই আলোচনার জন্য প্রথম খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছিল নরওয়ে। ওই প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত হতে পারে। নরওয়ের এই খসড়া প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছে তিউনিসিয়া ও চীন। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সংঘর্ষের শুরু চলতি সপ্তাহের শুরুতে। আল-আকসায় পবিত্র জুমাতুল বিদা আদায়কে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। বলা হচ্ছে, বিগত কয়েক বছরের মধ্যে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড় সংঘর্ষের ঘটনা। এদিকে বৈঠক নিয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের বেশ কয়েকজন কূটনীতিক কথা বলেছেন। জাতিসংঘের মিশনে যুক্ত একজন কূটনীতিক বলেন, উত্তেজনা প্রশমনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের যে কোনো পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ওতপ্রোতভাবে কাজ করছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া সংঘর্ষ থামাতে দু'পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সমালোচকরা বলছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর কঠোর হাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

মন্তব্য করুন