ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আলজাজিরা ও এপির কার্যালয় থাকা বহুতল ভবন আল-জালা টাওয়ার গুঁড়িয়ে দেওয়ায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্তের আবেদন জানিয়েছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

আরএসএফের মহাসচিব ক্রিস্টোফ ডেলোর বলেছেন, 'ইচ্ছাকৃতভাবে সংবাদমাধ্যম কার্যালয়ে হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল। এভাবে মিডিয়া আউটলেটগুলো ধ্বংস করে ইসরায়েলি বাহিনী কেবল সংবাদ কার্যক্রমের অগ্রহণযোগ্য ক্ষতিই করছে না, তারা একটি জনসম্পৃক্ত সংঘাতের বিষয়ে মিডিয়া কাভারেজেও বাধা দিচ্ছে।' আল-জালা টাওয়ারে হামলার পর একাধিক টুইটে আরএসএফ মহাসচিব বলেন, ভবনটি হামাস বা অন্য কোনো যোদ্ধা বাহিনী ঢাল হিসেবে ব্যবহার করলেও তা মিডিয়াকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু বানানোর বৈধতা দেয় না। এটি পরিস্কার যুদ্ধাপরাধ। তিনি বলেন, গাজায় গত ১১ মে থেকে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ার ওপর বোমাবর্ষণের বিষয়ে আমরা আইসিসির প্রসিকিউটর ফাতু বেনসৌদাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছি। আমরা এটিকে যুদ্ধাপরাধ বলে মনে করছি। আরএসএফের মতো একই দাবি জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও। রোববার এক টুইটে তারা বলেছে, আল-জালা ভবনে হামলা চালিয়ে আলজাজিরা ও এপির কার্যালয় ধ্বংস করাকে অবশ্যই যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্ত করতে হবে। গত শনিবার আকস্মিক হামলা চালিয়ে গাজার ১২তলা বিশিষ্ট আল-জালা ভবন গুঁড়িয়ে দেয় ইসরায়েল। ভবনটিতে আলজাজিরা, এপিসহ কিছু\হমিডিয়ার কার্যালয় ও আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ছিল।\হইসরায়েলের বিমান হামলার স্বাধীন তদন্ত দাবি এপির :গাজায় এপি, আলজাজিরা এবং অন্যান্য মিডিয়ার একটি ভবন লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বিমান হামলার নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছেন এপির নির্বাহী সম্পাদক স্যালি বুজবি। তিনি বলেন, ইসরায়েল এখনও বিমান হামলার যৌক্তিকতার পক্ষে স্পষ্ট প্রমাণ সরবরাহ করতে পারেনি। ইসরায়েলের দাবি, হামাস ওই ভবনকে তাদের সামরিক গোয়েন্দা অফিস হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লে. কর্নেল জনাথন কনরিকাস বলেছেন, 'তথ্য সরবরাহের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন এবং আমি নিশ্চিত যে, সঠিক সময়ে তথ্য উপস্থাপন করা হবে।' এপির বুজবি বলেন, 'আমরা মনে করি যে শনিবার কী ঘটেছিল সে বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে দেখা দরকার। এই মুহূর্তে এর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার।'

মন্তব্য করুন